দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: রেশনে সরবরাহ করা প্রায় ১৪০ ক্যুইন্টাল আটা বাজেয়াপ্ত করল বাঁকুড়ার পুলিশ! কোতুলপুরের এই ঘটনায় জোর তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। বড় কোনও দুর্নীতির যোগ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।
সূত্রের খবর, বুধবার কোতুলপুর নাকা চেকিং চলছিল অন্যান্য দিনের মতোই। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী এবং পরিদর্শকরা একি পিক আফ ভ্যান আটক করেন সন্দেহ হওয়ায়। খাদ্য ও পরিবহণ বিভাগের কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। আগে থেকে এ বিষয়ে কোনও খবর ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ভ্যানটি আটক করে দেখা যায়, সেটি ভর্তি আটার বস্তায়। তবে ওই পিক আপ ভ্যানের চালক বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, গোপীনাথপুরের শালুকগেঁড়ে গ্রামের মাবিয়া গায়েন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ওই আটা সংগ্রহ করে সরাসরি গড়বেতা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জানতে পারার পরে পুলিশ ও খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা গোপীনাথপুরের ওই ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করলে সেখান থেকে আরও বেশ কিছু রেশনে সরবরাহ করা আটা উদ্ধার করা হয়।
খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে এবিষয়ে কোতুলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে পুলিশ জানতে পারে, গত ছ'মাস ধরে বাড়িতে রেশনের আটার প্যাকেট খুলে বস্তায় ভরে সেই আটা মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গার লাইন হোটেলগুলিতে সরবরাহ করছিল ওই ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার কোতুলপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করেছে।
স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা এই ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, রাজ্য সরকারের রেশন দ্রব্য নিয়ে কোন ধরনের কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না। একইসঙ্গে খাদ্য দফতর ও পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। জানিয়ে দেন, এই ঘটনায় যারা যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।