রানিগঞ্জের গ্রাম জুড়ে ধস নেমেছে! কেবল মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুর্গা মন্দির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আজ সে রাজা, কাল সে ফকির/ মজার দুনিয়ায়"- এটি একটি জনপ্রিয় বাংলা গানের লাইন। তবে এই লাইনটি যে কতটা মর্মান্তিক হতে পারে তা প্রতিমুহূর্তে টের পাচ্ছেন রানিগঞ্জের (Raniganj) হরিশপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এলাকার বর্ধিষ্ণু গ্রাম
শেষ আপডেট: 5 October 2021 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আজ সে রাজা, কাল সে ফকির/ মজার দুনিয়ায়"- এটি একটি জনপ্রিয় বাংলা গানের লাইন। তবে এই লাইনটি যে কতটা মর্মান্তিক হতে পারে তা প্রতিমুহূর্তে টের পাচ্ছেন রানিগঞ্জের (Raniganj) হরিশপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এলাকার বর্ধিষ্ণু গ্রাম নামে পরিচিত হরিশপুর গত বছর জুলাই মাসে ধসের কবলে পড়ে। গত এক বছরে গ্রামটির চেহারা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। ১২০০ বাসিন্দার এই গ্রামে আজ সর্বসাকুল্যে ৫০০ জনের মতো মানুষ বসবাস করছেন। বাকিরা প্রাণভয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। যাঁরা আছেন তাঁরাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
পা অসাড়, তবু ট্রাইসাইকেলে বসিরহাট থেকে কামাখ্যা দর্শনে চলেছেন খোকন
এই গ্রামে বেশিরভাগই পাকা বাড়ি ছিল। কোনওটা দুই তলা, কোনওটা আবার একতলা। কিন্তু ইসিএলের গাফিলতির ফলে মাটির তলা ফাঁকা থেকে গিয়ে ধস নেমেছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। এই ধসের ফলে গ্রামের সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দুর্গা মন্দিরটির কোনও ক্ষতি হয়নি। সেই থেকেই গ্রামবাসীদের বিশ্বাস মা দুর্গার কৃপাতেই মন্দির অক্ষত আছে, তিনিই সকলকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করবেন!
গ্রামবাসীদের অভিযোগ পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ইসিএল থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা সকলের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। গ্রামের মধ্যে যাদের আর্থিক অবস্থা বেশি ভালো ছিল তাঁরা অন্যত্র চলে গিয়েছেন। বাকিরা প্রাণ হাতে নিয়ে ধস কবলিত হরিশপুর গ্রামে বসবাস করছেন।
এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা খেতে না পেলেও দুর্গা পুজো করার সিদ্ধান্তে অনড়। এই বছর ৩৭ তম বর্ষে পা দেবে গ্রামের দুর্গা পুজো।
২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুনর্বাসনের দাবিতে ভোট বয়কটের কথা ঘোষণা করেছিল হরিশপুরের বাসিন্দারা। তারপরও বিশেষ লাভ হয়নি। তাই আপাতত দেবী দুর্গার ভরসাতেই দিন কাটাচ্ছেন বিপন্ন গ্রামবাসীরা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'