
শেষ আপডেট: 8 July 2023 05:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। গুলি, বোমাবাজি হয়েছে, রক্ত ঝরছে, খুনের ঘটনাও ঘটেছে। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে সকাল সাড়ে ন'টা পর্যন্ত পাঁচজন ভোটের হিংসায় বলি হয়েছেন। আহত আরও বেশ কয়েকজন। কিন্তু সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও কমিশনে দেখা ছিল না রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার (Rajiv Sinha)!
প্রশ্ন উঠছে কোথায় গেলেন কমিশনার? কমিশন সূত্রে এখনও পর্যন্ত তিনি কোথায় আছেন কোনও খবর মেলেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সুষ্ঠু ও অবাধ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোর যাঁর কাঁধে দায়িত্ব ছিল, সেই কমিশনার কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন?
ঘড়ির কাঁটায় তখন ১০টা। কমিশনে এলেন কমিশনার রাজীব সিনহা। যদিও ভোট অশান্তি নিয়ে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। গাড়ি থেকে নেমে গটগটিয়ে ঢুকে যান কমিশন দফতরে।
ভোটের সকাল থেকে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, কোচবিহার, ভাঙড়--- বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনার ঘটছে। কোথাও বুথ দখলের চেষ্টা চলছে, কোথাও আবার ব্যালট বাক্সে জল ঢেলে দিয়ে ভোট পণ্ড করার চেষ্টা। আবার কোথাও মুহুর্মুহু বোমা পড়ছে, গুলি চলছে। প্রাণ হারাচ্ছেন তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস কর্মীরা।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যে তাণ্ডবের চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা থেকে উঠছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। বিশেষত কমিশনার রাজীব সিনহার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন জাগছে। হাইকোর্ট বারবার বিভিন্ন পঞ্চায়েত মামলার রায় দেওয়ার সময় বলেছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে হবে কমিশনকে।
সেই জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে উচ্চ আদালতের তরফে। কিন্তু ভোট শুরু হতেই জেলায় জেলায় অশান্তির ছবি সামনে আসছে। আরও একটা প্রশ্ন প্রকট হচ্ছে তা হল, কোথায় কেন্দ্রীয় বাহিনী? নির্বাচনে অশান্তি এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে বলেছিল হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক ৮২২ বাহিনী চাওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের থেকে। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৮০ শতাংশ বাহিনী রাজ্যে এসেছে। বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে রাজ্য পুলিশও। অভিযোগ, ভোটে পুলিশ নীরব দর্শক।
পঞ্চায়েত ভোটে প্রথম দু’ঘণ্টার মধ্যেই খুন ৫, তৃণমূলেরই ৪ জন, রাজ্য জুড়ে হিংসা অশান্তির ছবি