দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়ে দুপুরে বিদ্রোহ করেছিলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বিকেলে বিদ্রোহের বার্তা দিলেন রাজীব বন্দ্যোাধ্যায়। প্রাক্তন তৃণমূল, রাজ্য বিজেপি-র এই দুই নেতার বক্তব্য নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে বঙ্গ বিজেপিতে। ঘটনাচক্রে দুজনেই নিশানা করেছেন এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতাকেই। তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নরেন্দ্র মোদী যখন মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটিয়ে দল ও সরকারের ভবিষ্যত মজবুত করতে চাইছেন তখন সৌমিত্র ও রাজীবের বিদ্রোহ বার্তা দলকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।
সৌমিত্র যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ার পাশাপাশি এদিন নাম না করে শুভেন্দুকে টার্গেট করেন। বলেন, একজন বলার চেষ্টা করছেন তিনিই সব।
অন্যদিকে, ভোট বিপর্যয়ের পরই তৃণমূলে ফেরার বার্তা দিয়ে আসছেন রাজীব। এদিন তিনি সরাসরি বিরোধী দলনেতার সমালোচনা করে বলেন, যাঁর নেতৃত্বে এবং যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়ে মানুষ ২১৩ আসনে তাঁর প্রার্থীকে জয়ী করেছে, সেই মুখ্যমন্ত্রীকে অযথা আক্রমণ না করে এখন উচিত সাধারণ মানুষের স্বার্থে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমানো।
ঘটনাচক্রে রাজীবের এই বক্তব্য যখন সংবাদমাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমত খড়গহস্ত শুভেন্দু।
তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই শুভেন্দু ও সৌমিত্রর সম্পর্ক খারাপ। শুভেন্দুকে সরিয়ে সৌমিত্রকে যুব তৃণমূলের সভাপতি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সৌমিত্র বিজেপিতে গিয়ে বিষ্ণুপুর থেকে লোকসভার সদস্য হন। এদিন তিনি ফেসবুক লাইভ করে নাম না করে শুভেন্দু সম্পর্কে বলেন, উনি দিল্লি গিয়ে নেতাদের ভুল বোঝাচ্ছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছেন, শুভেন্দুর আপত্তিতেই তিনি মন্ত্রী হতে পারলেন না। প্রসঙ্গত, শুধু শুভেন্দু নন, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গেও সম্পর্ক ভাল নয় সৌমিত্রর।
ভোটের দিন ঘোষণার আগে বিজেপিতে যোগ দেন রাজীব। তিনি ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী। ঘটা করে বিজেপিতে গেলেও নিজের ডোমজুর কেন্দ্র থেকে জিততে পারেননি রাজীব। ভোটের পর থেকেই তিনি গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে নানা ভাবে সরব। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরার বাসনা এদিন আরও জোরালোভাবেই ব্যক্ত করেছেন রাজীব। পেট্রোল ডিজেলের দাম নিয়ে এই মুহূর্তে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিবাদ চলছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যে রাজীব মমতা বন্দ্যোধ্যায়ের পক্ষ নিলেন। ফোনে বিশদ প্রতিক্রিয়া চাইলে রাজীব বলেন, 'আজ এই পর্যন্তই।'