
শেষ আপডেট: 16 July 2022 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar) যে এনডিএ-এর উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হতে পারেন সে কথা শনিবার দুপুরে সবার প্রথম দ্য ওয়ালেই লেখা হয়েছিল। তখনই কৌতূহলের স্রোত বয়ে গেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সন্ধ্যায় বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ধনকড়ের নাম উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করতেই প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠল বাংলায়।
শাসক দলের নিচু তলার অনেকেই অতি উৎসাহী হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ পর্যন্ত লিখে ফেলেছেন, ‘পাপ বিদেয় হল।’ তবে ত্রিপুরায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Banerjee) এ ব্যাপারে বলেন, “রাজ্যপাল বা উপরাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক পদ। তাঁদের সম্পর্কে অসংসদীয় শব্দের ব্যবহার করব না। কিন্তু এটা বলব, ব্যক্তি জগদীপ ধনকড় রাজভবনের যে রাজনীতিকরণ করেছিলেন, তা থেকে খুব শিগগির মুক্তির পথ দেখছি না”। রাজীবের কথায়, “এক ধনকড় যাচ্ছেন, নিশ্চয়ই আর এক ধনকড় আসবেন! তাই উৎসাহের কিছু দেখছি না।”
রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের ঠোকাঠুকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের গোড়া থেকেই লেগেছিল। কিন্তু জগদীপ ধনকড়ের মেয়াদে তা রীতিমতো সংঘাতের চেহারা নেয়! রাজ্যপাল যেমন টুইটের মাধ্যমে এক প্রকার আকাশবাণী বা বিবিধ ভারতীর মতো সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নিয়ে ধারাবাহিক সমালোচনায় ব্রতী ছিলেন, তেমনই তাঁকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংবিধানের ধারা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার বোঝাতে চেয়েছেন, রাজ্যপালের পদ একেবারে আলঙ্কারিক। কিন্তু তিনি লক্ষণরেখা অতিক্রম করে প্রশাসনিক বিষয়ে নাক গলাতে চাইছেন।
এদিন রাজীব বোঝাতে চেয়েছেন, ধনকড় ব্যতিক্রম নয়। বিজেপি জমানায় বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্যপাল পদে যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠছে। তা সে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগৎ সিং কেশিয়ারি হোক বা কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান।
শুধু তৃণমূল নয়, জগদীপ ধনকড় যে বাংলার রাজভবনের গুরুত্ব লঘু করেছেন সেই অভিযোগ তুলেছিলেন বাম ও কংগ্রেসের নেতারাও। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর মতে, রাজ্যপাল হয়তো বহু বিষয়ে সঠিক কথাই বলেছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা শুনে বারবার মানুষের মনে এই ধারণাই বদ্ধমূল হয়েছে যে তিনি রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন। আরও স্পষ্ট করে বললে, বাংলায় দিলীপ ঘোষদেরই যেন অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে চেয়েছিলেন জগদীপ ধনকড়। তাতেই রাজভবনের ওজনের মর্যাদায় ধাক্কা লেগেছে। অধীরবাবুর সঙ্গে একপ্রকার সহমত ছিলেন সিপিএম নেতারা। এখন দেখার রাজভবনে এবার কাকে পাঠায় দিল্লি, নাকি আপাতত কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সময় নেন অমিত শাহরা।
আরও পড়ুন: জানেন তো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার আপনিও, জেনে নিন একটি ভোটের মূল্য কেন ৭০০