দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ব্রাহ্মণ সন্তান। শান্ডিল্য গোত্র। মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকলেও সেই পরিচয়ে এতদিন রাজনীতি করেননি। কিন্তু শুক্রবার, সম্ভবত এই প্রথম ব্রাহ্মণদের দাবি দাওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন তৃণমূলের এই তরুণ নেতা।
রাজীব এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভার বনমন্ত্রী। কিন্তু পদে থেকেও এদিন কার্যত বর্তমান সরকারকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, শুধু ৮-৯ হাজার পুরোহিতকে নামমাত্র ভাতা দিলেই চলবে না। ব্রাহ্মণদের বেশ কিছু দাবিদাওয়া রয়েছে। সনাতন ধর্মের মানুষ যাতে সুখে থাকেন তা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে কলকাতা অবরুদ্ধ করে দেব।
গানের শখ রাজীবের বরাবরের। মোটামুটি ভাবে সুরেই গান করেন। তবে ইদানীং দেশাত্মবোধক, জাতীয়তাবাদী গান বাঁধছেন তিনি। তা রেকর্ডও করছেন। তবে অনেকে বলছেন, রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূলের সুর থেকে যেন ভিন্ন ঠেকছে রাজীবের গান। শুক্রবারের রাজীবের কথাবার্তায় তাঁরা আরও কিছুটা চমকেছেন।
সপ্তাহ দেড়েক আগে একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাজীব বলেছিলেন, আমি ঠাণ্ডা ঘরে বসে থাকার কর্মী নই। দক্ষতা এবং যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।… যেখানে মানুষ মনের কথা বলতে পারে, সেখানেই থাকব।” তিনি আরও বলেন, “অনেকেই এখন ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে। নিজের ভালর জন্য রাজনীতি করে। আর যখন কেউ ভাল কাজ করতে যায়, তাঁকে পিছন থেকে টেনে ধরা হয়। এখন স্তাবকতার যুগ, হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাতে হয়। এ ভাবেই রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে। সময় এলে মানুষ সব টের পাইয়ে দেবে”।
তারপর দেখা যায় তাঁর ছবি সহ হোর্ডিংয়ে ছেয়ে যাচ্ছে কলকাতা, হাওড়ার একের পর এক এলাকা। তৃণমূলের প্রতীক সেখানে নেই। তার কোনওটায় লেখা ‘আমরা রাজীবপন্থী’, কোনওটায় ‘আমরা দাদার সেবক’, আবার কোনওটায় “আমরা দাদার কর্মী।”
শুভেন্দুর ছবি সহ পোস্টারে আমরা দাদার অনুগামী লেখা এখন পুরনো বিষয়। কিন্তু তার মধ্যেই রাজীবের ছবি ও হোর্ডিং নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তারপর এদিন ব্রাহ্মণদের নিয়ে আন্দোলনের আওয়াজ তুলে দিলেন ডোমজুড়ের বিধায়ক।
ব্রাহ্মণ, হিন্দুত্ব, সনাতন ধর্ম-- সব মিলিয়ে রাজীবকে নিয়ে তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও শুভেন্দু অধিকারী যেমন রামনগরে বলেছিলেন আমিএখনও দলের সদস্য, মন্ত্রিসভায় আছি, তেমন রাজীবও বলেছেন। তবে এও বলেছেন, "যত মত, তত পথ। ঠাকুর আমায় পাঠিয়েছে মানুষের পাশে থাকার জন্য।"