ডুমুরজলায় রাজীব: ‘আমাদের বিরুদ্ধে যত অপশব্দ বলবেন, তত জেদ বাড়বে’
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার আগে তৃণমূল নেতারা একটানা ১৫ দিন যেন ভাঙা রেকর্ড বাজিয়েছিলেন— ‘শুভেন্দু দলের বিশিষ্ট নেতা, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটির সদস্য ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।’
সেই শুভেন্দু দল ছাড়তেই তাঁকে মির
শেষ আপডেট: 31 January 2021 09:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার আগে তৃণমূল নেতারা একটানা ১৫ দিন যেন ভাঙা রেকর্ড বাজিয়েছিলেন— ‘শুভেন্দু দলের বিশিষ্ট নেতা, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটির সদস্য ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।’
সেই শুভেন্দু দল ছাড়তেই তাঁকে মিরজাফর, তোলাবাজ, বিশ্বাসঘাতক আরও কত কীই না বলছেন তৃণমূলের নেতারা। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রথম মুহূর্তেই ঠিক সেই জায়গায় আঘাত করতে চাইলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ডুমুরজলার সভা মঞ্চ থেকে রাজীব বলেন, “আমি শুনছি আমার এবং আমাদের নামে কেউ কেউ অপশব্দ বলছেন। আমি একটা কথা বলে দিতে চাই, যত অপশব্দ বলবেন তত আশীর্বাদ বর্ষিত হবে আমাদের উপর। তত জেদ বাড়বে, জোশ বাড়বে।”
এখানেই থামেননি ‘জেন্টেলম্যান’ রাজনীতিক। তাঁর কথায়, যখন কেউ তৃণমূল জয়েন করে তখন বলে কারও অনুপ্রেরণা আর উন্নয়নের জন্য যোগদান। আর যখন আরও উন্নয়নের জন্য কেউ সেই দল ছেড়ে আসে তখন বলে গদ্দার। এ কী সংস্কৃতি!
এদিনের বক্তৃতায় আরও যা যা বললেন রাজীব:
-
২০২১-এ সারা বাংলায় পদ্মফুল ফোটাব, এটাই শপথ।
-
কেউ বলতে পারবেন না কাউকে কখনও অসম্মান করেছি। যতদিন বেঁচে থাকব, যতদিন বিজেপিতে থাকব ততদিন কর্মীদের সম্মান করব। আমি মনে করি কর্মীরাই সম্পদ। তাঁদের জন্যই আজকে আমরা নেতা।
-
স্লোগান ছিল বদলা নয় বদল চাই। কিন্তু বাস্তবে কী হয়েছে? বিরোধীদের উপর আক্রমণ হয়েছে দিনের পর দিন। মিছিল, মিটিং করতে দেওয়া হয়নি। ভোট করতে দেওয়া হয়নি বহু জায়গায়। নাড্ডাজির গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়া হয়েছে।
-
বিরোধীদের উপর এই আক্রমণ শেষের শুরুর লক্ষ্মণ।
-
অমিত শাহ টার্গেটে বেঁধে দিয়েছেন। আমরা সেই টার্গেটে পৌঁছব। লক্ষ্য না থাকলে কিছু অর্জন করা যায় না। সেই লক্ষ্য স্থির করেই আমরা এগিয়ে যাব। ২৯৪টি বিধানসভায়, প্রতিটি বুথে।
-
যে ভাবে সম্মান দেখিয়ে আমাদের যোগ দান করিয়েছেন তা অভূতপূর্ব।
-
আজকে বাংলার মানুষের অনেকের হতাশা। কাজ নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে কিন্তু এখনও অনেক বাকি।
-
বেকার যুবকদের কাজের সংস্থান নেই। সরকার দিশা দেখাতে পারেনি। আমার ভাবলে কষ্ট হয়।
-
হাওড়া ছিল সবচেয়ে বড় শিল্পনগরী। এখন তা শ্মশানে পরিণত হয়েছে।
-
বাম জমানায় দেখতাম কেন্দ্রকে দুষে বছরগুলো কাটিয়ে দিল। এই সরকারও কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক না রেখে রাজ্যকে পিছিয়ে দিয়েছে। শুধু ঝগড়া করে গেছে। তাই ডবল ইঞ্জিন সরকার চাই।
-
সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের ভয় দেখানো হচ্ছে। শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িকতার জুজু দেখিয়ে ভোটের মেশিন হিসেবে ব্যবহার করে গেছে। তাঁদের কোনও উন্নয়ন হয়নি।
-
ভোটের মুখে দুয়ারে সরকার করতে হচ্ছে। তার মানে এত দিন দুয়ারে সরকার যায়নি। পাড়ায় পাড়ায় সমাধান করতে হচ্ছে। তার মানে পাড়ায় পাড়ায় সমস্যা ছিল।
-
স্বাস্থ্যসাথী ভাঁওতা। যুক্তি দিয়ে বলছি এটা ভাঁওতা। কত টাকা করে কভারেজ? পাঁচ লক্ষ টাকা। এক কোটি পরিবার যদি পাঁচ লক্ষ টাকা করে কভারেজ নেয় তাহলে কত টাকা হয়? পাঁচ লক্ষ কোটি টাকা। সরকারের বাজেট কত?
-
বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। দয়া করে রাজ্য বাঁচান, বাংলা বাঁচান।
-
চলুন পাল্টাই, স্লোগান তুলুন।
-
ধমকে চমকে ভোট হবে না। আমরাও জানি কী ভাবে ভোট করাতে হয়। এত দিনে সেটা শিখেছি।
-
এবার অলিতে গলিতে একটাই স্লোগান, চুপচাপ পদ্মে ছাপ।