ইস্তফা দিয়ে কেঁদে ফেললেন রাজীব, মমতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েও বললেন, উনি সৌজন্য দেখাননি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শনিবার ফেসবুক লাইভ করার সময়েই একবার আবেগে গলা বুজে এসেছিল। শুক্রবার মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কেঁদে ফেললেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করে শুক্রবার সকালে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে
শেষ আপডেট: 22 January 2021 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শনিবার ফেসবুক লাইভ করার সময়েই একবার আবেগে গলা বুজে এসেছিল। শুক্রবার মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কেঁদে ফেললেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করে শুক্রবার সকালে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে দেন রাজীব। তার পর রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করেন। ঘন্টা খানেক সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তাঁর মনের কথা বলতে গিয়েই কেঁদে ফেলেন রাজীব। বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি জীবনে এই দিন আসবে। খুব কষ্ট হচ্ছে।”
রাজীবের কষ্ট ঠিক কোথায় তা এদিন পরিষ্কার করেই বলেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমার জীবনে কারও অবদান থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতি আজীবন শ্রদ্ধাশীল থাকব”। তার পরই বলেন, তাঁর প্রতি দিদির আচরণেই মনে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষত আড়াই বছরের পুরনো। তাই ভিতর থেকে কুরে খাচ্ছিল তাঁকে।

রাজীব বলেন, আমি সেচ মন্ত্রী ছিলাম। আড়াই বছর আগে হঠাৎ আমাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী তা করতেই পারেন। সেটা তাঁর অগ্রাধিকার। আর কোনও দফতর ছোট নয়। সব দফতরেরই গুরুত্ব রয়েছে। কাজ করতে চাইলে যে কোনও দফতরে কাজ করা যায়।
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা করতে গিয়ে তাঁর সতীর্থর প্রতি ন্যূনতম সৌজন্য দেখাননি। আমি উত্তরবঙ্গে ছিলাম সেচ দফতরের কাজে। তার পর কলকাতায় ফিরে তৃণমূল ভবনে দলের কর্মীদের সঙ্গে বসেছিলাম। হঠাৎ দেখি, টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দেখাচ্ছে—রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেচ দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। তাতে খুব অপ্রস্তুত হয়েছিলাম কর্মীদের সামনে। রাজীবের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী আমাকে আগে অন্তত একবার জানাতে পারতেন।

রাজীব জানান, পরদিনই তিনি মন শক্ত করে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলেন, তিনি মন্ত্রিসভায় থাকতে রাজি নন। দলের কর্মী হয়েই কাজ করতে চান। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বিরত করেন।
রাজীবের এ কথা শুনে এদিন প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি মুখপাত্র বলেন, শুভেন্দু অধিকারীও তৃণমূলে ছিলেন। তিনি পরিষ্কার বলছেন, তৃণমূল প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। দেড় জনের পার্টি। ওখানে থাকলে কর্মচারী হয়ে থাকতে হবে। কর্মচারী বলে মনে করেন বলেই সৌজন্য দেখানো হয় না। সতীর্থ বলে মনে করলে নিশ্চয়ই এরকম করতেন না।