দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাতায়-কলমে বাংলায় এখনও ঢোকেনি বর্ষা। কিন্তু তার আগে থেকএই ঝড়জল চলছেই রাজ্যে। নিম্নচাপের জেরে প্রায় রোজই ভাসছে রাজ্যের নানা প্রান্ত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আর এই নিম্নচাপের জেরেই আজ শুক্রবার, ১১ থেকে ১৪ জুন অর্থাৎ একটানা চার দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে রাজ্যে।
এরই মধ্যে আজ অমাবস্যা, গঙ্গায় ভরা কোটালের তিথি। সে সময়ে গঙ্গায় বান আসতে পারে বলেও আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন এই জেলার বাসিন্দারা। কয়েকদিন আগেই ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার। ভেঙে যায় একাধিক নদীবাঁধ। প্রশাসনের তরফে নদীবাঁধগুলি মেরামতির কাজও শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এখনও বহু গ্রাম জলমগ্ন। ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন বহু মানুষ। এখন ভরা কোটাল ঘিরে তাদের মধ্যে ফের উদ্বেগ বেড়েছে। আবারও কি আসছে বিপদ!
ইতিমধ্যেই সমুদ্রে বা নদীতে যেতে বারণ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। যাঁরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়েছেন তাঁদেরও দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, মোহনায় জোয়ার আসে শুরু হয়ে গিয়েছে এখনই।
এদিকে শহর কলকাতায় জোয়ার শুরু হবে দুপুর ২টোর দিকে। শহরের গঙ্গার ঘাটগুলিতেও পুলিশের তরফে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে, জোয়ারের সময়ে যাতে কেউ গঙ্গায় না নামে। আশঙ্কা, জোয়ারের সময় জলোচ্ছ্বাস পৌঁছতে পারে ১৭ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত। রাজ্যজুড়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টা ঝড় এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। এই ঝড়জলের মধ্যেই বাংলায় প্রবেশ করবে বর্ষা। তবে রাজ্যের তাপমাত্রা এখনই খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই। গুমোট গরম থাকবেই।
কলকাতায় আকাশ আজ সকাল থেকেই আংশিক মেঘলা। বিকেলের দিকে ঝড়-বৃষ্টি নামার পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, আজ শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকতে পারে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে। গতকাল শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি নীচে। কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। শহরে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বাধিক ৯০ শতাংশ, ন্যূনতম ৬৬ শতাংশ।
আজ, শুক্রবার থেকে কোন জেলায় কেমন বৃষ্টি--
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে তার জেরে শুক্রবার থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। উপকূলের নীচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
শনিবার উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া পুরুলিয়া, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
রবিবার পাহাড়ি জেলাগুলোতে বৃষ্টি হবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। পাশাপাশি, বৃষ্টি হবে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতে।