শোভন চক্রবর্তী
দেওয়াল লিখন এখন পরিষ্কার। কাল বা পরশু হয়তো তৃণমূলের বিধায়ক পদ তথা প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেবেন শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক প্রাক মুহূর্তে আজ মঙ্গলবার তাঁকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠালেন রাহুল গান্ধী।
সূত্রের খবর, রাহুল নিজে ফোন করেননি। তবে তাঁর এক আস্থাভাজনকে দিয়ে ফোন করিয়েছিলেন শুভেন্দুকে। আজ শুভেন্দুর জন্মদিন। রাহুলের ওই দূত শুভেন্দুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। তার পর বলেন, "রাহুল গান্ধী চাইছেন, আপনি যদি কংগ্রেসে যোগ দেন। এমনিতে তো আপনাদের কংগ্রেসের ঘরানার পরিবার। শিশিরবাবু দীর্ঘদিন কংগ্রেসি রাজনীতি করেছেন। কংগ্রেসের বিধায়কও ছিলেন।"
অতীতে একবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথন হয়েছিল শুভেন্দুর। দু’জনে প্রায় সমবয়সী। দুজনেই অকৃতদার। রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সততা, পরিচ্ছন্নতা, দেশের বহুত্ববাদকে মজবুত করার প্রতি আগ্রহের ব্যাপারে দু'জনেই একই ধরনের মত পোষণ করেন। তা ছাড়া রাজনীতির মাধ্যমে সমাজব্যবস্থা বদলে দেওয়ার ব্যাপারে দু'জনেরই রোম্যান্টিসিজম বা আবেগ রয়েছে।
পার্লামেন্টে ইয়ুথ কংগ্রেসে রাহুল, শুভেন্দু সদস্য ছিলেন। সে সময়ে ইয়ুথ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন হরিয়ানার তরুণ কংগ্রেস নেতা রাহুল ঘনিষ্ঠ অশোক তাওয়াঁর। অশোক আবার দিল্লিতে শুভেন্দু প্রতিবেশী ছিলেন।
তবে সূত্রের খবর, শুভেন্দু সৌজন্য দেখিয়ে তাঁর অপারগতার কথা জানিয়ে দিয়েছেন রাহুলের ওই দূতকে। ব্যক্তিগত স্তরে সুসম্পর্ক ও সৌজন্য বজায় থাকবে বলেও জানিয়েছেন তাঁকে।
এ ব্যাপারে শুভেন্দুকে ফোন করা হলে তিনি অবশ্য ধরেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, কন্টাই সমবায় ব্যাঙ্কের বার্ষিক অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শুভেন্দুবাবু।
বস্তুত, রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে শুভেন্দুর সম্পর্ক বরাবরই ভাল। সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে বারংবার খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর এক অনুগামীর কথায়, "দাদা তৃণমূল ছাড়লে কংগ্রেস তাঁর কাছে বিকল্প হওয়া সম্ভব নয়। একুশের ভোটে তৃণমূলকে পরাস্ত করার দাদার লক্ষ্য।" বাস্তব হল, রাজ্যে একে তো কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। তার উপর বাম-কংগ্রেসের এখন জোট রয়েছে। নন্দীগ্রামে সিপিএমের বিরুদ্ধে যিনি আদর্শগত লড়াই করেছেন, তিনি তাঁদের সঙ্গে যাবেন কীভাবে?
শুভেন্দুর ওই অনুগামীর কথায়, সিপিএম সম্পর্কে ওই ছুঁতমার্গ বাদ দিলেও আর একটা বিষয় ভীষণভাবে বাস্তব। তা হল, ষোল সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকে বাম-কংগ্রেসের ধারাবাহিকতার অভাব। বাংলায় সংখ্যার দিক কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দল। তার পরই বামেরা। কিন্তু তৃণমূল বিরোধিতায় তাঁদের ধারাবাহিক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গত পাঁচ বছরে দেখা যায়নি। বাংলায় তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে মানুষের সামনে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি কংগ্রেস-সিপিএম।