
শেষ আপডেট: 23 March 2019 11:18
ন মৌসম। কিন্তু রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধীর স্নেহ উপেক্ষা করেই মৌসম গতমাসে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। নবান্নে গিয়ে দেখা করার পর, সাংবাদিকদের সে দিনই দিদি জানিয়ে দিয়েছিলেন, মৌসমই মালদহ উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়বেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই রাহুলের মালদহ সফরের আগে কৌতূহল ছিল, বদলে যাওয়া মৌসমকে নিয়ে রাহুল কী বলেন। কংগ্রেস নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা মতোই শনিবার মৌসমের নাম না করে চাঁচলের সভা থেকে চাঁচাছোলা আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি।
এ দিন রাহুল বলেন, “কংগ্রেসের পুরনো প্রার্থী আপনাদের ধোঁকা দিয়েছেন। মনে রাখুন। ওঁকে বুঝিয়ে দিন এটা কংগ্রেসেরই গড়। ধোঁকা দিয়ে এগনো যাবে না।” শুধু মৌসম নয়। মোদী সরকারকে নিশানা করার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও এ দিন বিঁধলেন রাহুল। যে দিন সন্ধে বেলা মৌসম তৃণমূলে গেলেন, সেই রাতেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র জানিয়ে দিয়েছিলেন, মৌসমের বিরুদ্ধে ওই কেন্দ্রে লড়বেন আবু হাসেম খান চৌধুরীর ছেলে ইশা খান। যেন বিধানভবনের জানাই ছিল মৌসম তৃণমূলে যাচ্ছেনই। তাই বিকল্প প্রার্থী ভেবেও রাখা ছিল। এ দিন ইশা খানের সমর্থনেই চাঁচলে জনসভা করেন রাহুল।
এ ব্যাপারে দ্য ওয়াল-এর তরফে মৌসমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি ধোঁকাবাজ কি না তা মানুষ ঠিক করবেন।" রাহুল গান্ধীর নাম না করে খোঁচা দিয়ে মৌসম বলেন, "ভোটের আগে অনেকে আসেন। কিন্তু মানুষ দেখবেন সারা বছর কাকে পান।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই যে রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে তাও বলেন মৌসম। উদাহরণ দিয়ে বলেন, "আফরাজুলের ঘটনা যখন ঘটল, তখন রাজস্থান সরকার কী করেছিল? আমাদের নেত্রী এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। উত্তরপ্রদেশে বাজি কারখানায় মালদহের শ্রমিকরা যখন মারা গেলেন, তখন ওই রাজ্যের সরকার কী করেছিল? দিদি করেছিলেন।"
গনিখান চৌধুরীর জেলা বলে পরিচিত মালদহ। চোদ্দর ভোটে জেলার দুটি আসনেই জিতেছিল কংগ্রেস। এ দিনের সভা থেকে কংগ্রেস এবং মালদহের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে সনিয়া-পুত্র বলেন, “মালদহের মানুষের সঙ্গে আমাদের কোনও রাজনৈতিক রিস্তা নয়, এটা পেয়ার কা রিস্তা।” জনসভা থেকে রাহুল জানিয়ে দেন, মালদহ যখনই তাঁকে ডাকবে, তিনি আসবেন। সব দেবেন।
এমনিতেই কংগ্রেস গনিখানের ছবি দিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। বরকত সাহেবের আবেগকে উস্কে দিতেই এই কৌশল নিয়েছে সাবেক দল। বস্তুত বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং-এর সরকার গনিখানকে রেলমন্ত্রী করতে চেয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস ছেড়ে যাননি বরকত সাহেব। বলেছিলেন, “দলত্যাগ করা পাপ। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত কংগ্রেসের পতাকা আমার বুকে থাকবে।” মামার বলা সেই কথাই ভাগ্নির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করেছে মালদহের কংগ্রেস।
জাতীয় রাজনীতির পরিসরে তৃণমূলের সঙ্গে এক সরল রেখায় থাকলেও, বাংলার রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় রাহুলকে তৃণমূল বিরোধিতা করতেই হতো। এ দিন তাই করলেন কংগ্রেস সভাপতি। মোদী, মমতা, মৌসম কাউকে বাদ দিলেন না বাংলার প্রথম নির্বাচনী সভা থেকে।