দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাফায়েল নিয়ে যাঁরা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই পালটা আইন ভাঙার অভিযোগ তুলল সরকার। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে সরকার দাবি করেছে, রাফায়েল নথি চুরি করা হয়েছিল। যাঁরা কোর্টে আবেদন করেছেন, তাঁরা গোপন নথির ভিত্তিতেই মামলা চালাচ্ছেন। এইভাবে তাঁরা গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করেছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে এদিন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল আদালতে বলেন, যে নথিগুলির ভিত্তিতে মামলা চালানো হচ্ছে, সেগুলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে চুরি গিয়েছিল। মন্ত্রকের প্রাক্তন অথবা বর্তমান কর্মীরাই নিশ্চয় চুরি করেছিল। এরপরে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ প্রশ্ন করেন, চুরির পরে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে? কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটা ফৌজদারি অপরাধ। কোনও পিটিশনের সঙ্গে গোপন নথিপত্র জমা দেওয়া যায় না।
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদপত্রে রাফায়েল চুক্তি নিয়ে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ওই চুক্তির সময় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সরকার বেশি দাম দিয়ে ওই বিমান কিনছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যালকে বাদ দিয়ে ফরাসি সংস্থা দাসোর অফসেট পার্টনার করা হয়েছে শিল্পপতি অনিল অম্বানির কোম্পানিকে। এর পরে ওই সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত হয়, এর আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার যে দামে রাফায়েল বিমান কিনতে চেয়েছিল, এনডিএ সরকার তার চেয়ে ১৯৬৩ কোটি টাকা বেশি দামে কেনার চুক্তি করেছে। ফ্রান্স ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিতে না চাওয়ায় ভারতকে বেশি দামে বিমান কিনতে হচ্ছে।
২০১৬ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার রাফায়েল বিমান নিয়ে চুক্তি করে। স্থির হয়, ৫৯ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ফরাসি সংস্থা দাসো এভিয়েশনের থেকে ৩৬ টি রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কিনবে ভারত। সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে বিমানযুদ্ধ নিয়েও উঠেছে রাফায়েলের নাম। পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার প্রতিশোধ নিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বোমা ফেলে আসে বায়ুসেনা। তার পরদিন ভারতে হানা দেয় পাকিস্তানের এফ ১৬ বিমান।
সরকারপক্ষ বলেছে, বিরোধীরা বাধা দিয়েছেন বলেই এখনও দেশে রাফায়েল বিমানের ডেলিভারি হয়নি। অথচ ওই বিমান থাকলে পাকিস্তানের একটা বিমানও ভারতে ঢুকে ফিরে যেতে পারত না। ভারতেরও কোনও বিমান ধ্বংস হত না। কংগ্রেস পালটা বলে, রাফায়েল বিমান যে এখনও দেশে আসেনি, তার জন্য একা মোদীই দায়ী।