
শেষ আপডেট: 17 July 2023 11:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরপর আটটি আফ্রিকান চিতার (Cheetah) মৃত্যু হয়েছে মর্মান্তিকভাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা চিতা ও পরবর্তীতে তাদের থেকে জন্মানো শাবক মিলিয়ে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে (Kuno National Park) ২৪টি চিতা ছিল। পরপর মৃত্যুর পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬টি। কেন এত ঘন ঘন চিতার মৃত্যু হচ্ছে সেই কারণ খুঁজতে গিয়ে কয়েকটি বিষয়কেই দায়ী করেছেন বন আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞরা। তার মধ্যে একটি রেডিও কলার।
রেডিও কলারের কারণে মৃত্যু হতে পারে?
মধ্যপ্রদেশের চিফ ফরেস্ট কনজারভেটর জে এস চৌহান জানিয়েছেন, রেডিও কলার থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে চিতার মৃত্যু হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, রেডিও কলার থেকে ত্বকে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল চিতাদের (Cheetah)। এর জন্য ভরা বর্ষাকেও দায়ী করেছেন তিনি। ফরেস্ট অফিসারের দাবি, বর্ষার সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে রেডিও কলারের আশপাশে চুলকায়, সেখানে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হতেই পারে চিতারা সংক্রমণের জায়গায় নখ-দাঁত দিয়ে কামড়ে, আঁচড়ে ক্ষত আরও বাড়িয়েছিল। পুরুষ চিতা সূরযের দেহ উদ্ধারের পরে গলায় এমন ক্ষতের দাগ দেখা গিয়েছিল।
তবে এই ব্যাপারে পরিবেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, রেডিও কলারের কারণেই যে চিতার মৃত্যু হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রেডিও কলার চিতাদের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য পরানো হয়। চিতা (Cheetah) তেজসের মৃত্যু হয়েছিল ট্রমাটিক শকের কারণে। তাছাড়া তার কিডনি ও ফুসফুস বিকল হয়ে গিয়েছিল। এই মৃত্যুর কারণ রেডিও কলার হতে পারে না।
কুনোয় ২৪ ঘণ্টায় দ্বিতীয় চিতার মৃত্যু, চার মাসে আটটি আফ্রিকান চিতা মারা গেল পরপর
২৪ এপ্রিল মারা যায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা পুরুষ চিতা উদয়। বন দফতরের পশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছিলেন, কুনোর এই চিতার মৃত্যুর কারণ, কার্ডিয়ো পালমোনারি ফেলিওর। চিতা শাবকেরও মৃত্যু হয়েছে শারীরিক দুর্বলতার কারণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার শুষ্ক আবহাওয়ায় থাকা চিতারা ভারতে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে মানাতে পারছে না। তাছাড়া চিতাদের বিচরণের জন্য যে বিশাল জায়গার দরকার হয় তাও পাচ্ছে না তারা। সব মিলিয়েই বিপর্যয় ঘটছে।
তবে চিতার মৃত্যুর কারণ হিসেবে রেডিও কলারের প্রসঙ্গ ওঠার পরে আপাতত দশটি চিতার রেডিও কলার খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্যপ্রদেশের বন দফতর। কিন্তু চিতাগুলো জঙ্গলে ছাড়া আছে। তাই কীভাবে তাদের রেডিও কলার খোলানো হবে সে নিয়ে চিন্তা বেড়েছে বন আধিকারিকদের।