দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভা, বিধায়ক পদ, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ-- সব ছেড়েছেন। যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ক্ষোভ ছিলই। বৃহস্পতিবার তা আরও একবার উগরে দিলেন মাস্টারমশাই। সাফ জানিয়ে দিলেন, প্রতিকার না হলে পরিস্থিতি অনুসরণ করে যা সিদ্ধান্ত নেব।
কী প্রতিকার চান মাস্টারমশাই?
সিঙ্গুরের ব্লক সভাপতি ছিলেন মহাদেব দাস। তাঁর বদলে মাস দেড়েক আগে জেলা সংগঠনের রদবদলে সিঙ্গুরের ব্লক সভাপতি করা হয় মহাদেব ধাড়াকে। মহাদেব ধারার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে মাস্টারমশাই শিবিরের। সিঙ্গুরের রাজনীতিতে বেচারাম মান্না এবং রবীনবাবুর দ্বন্দ্ব সুবিদিত।
গোবিন্দকে নিয়ে মাস্টারমশাইয়ের ক্ষোভ তীব্র আকার নেয়। সরাসরি দল ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দেন বর্ষীয়ান বিধায়ক। তারপর তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়।
নতুন সভাপতি গোবিন্দ বেচারাম ঘনিষ্ঠ। অনেকে বলেন তাঁর বিরুদ্ধে দিয়ারা পঞ্চায়েতে চাল দুর্নীতির অভিযোগ আছে। মাস্টারমাশাইয়ের বক্তব্য, যাঁরা সৎ তাঁরা ব্রাত্য আর চার জোচ্চর তাঁরা নেতা!
মাস দেড়েক আগে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে বেচাকে বলা হয়, গোবিন্দকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর গোঁসা করে বেচা সোজা বিধানসভায় গিয়ে ইস্তফাপত্র দিয়ে দেন। তারপর সুব্রত বক্সী ধমকে ধামকে বেচাকে শান্ত করেন।
কিন্তু ব্লক সভাপতি এখনও বদল হয়নি সিঙ্গুরে। তাই বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে ক্ষোভ জানান রবীনবাবু। তিনি বলেছেন, "নেত্রীর প্র্তি আমরা আস্থাশীল। প্রতিকার না হলে পরিস্থিতি অনুসরণ করে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেব।"
অনেকের মতে, রবীনবাবু সৎ লোক। দীর্ঘদিন মাস্টারি করেছেন। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন পরিস্থিতি কী আর তিনি কোন পথ অনুসরণ করতে চান।
লোকসভা ভোটে সিঙ্গুর বিধানসভায় ব্যাপক ভোটে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সেই হিসেবে হুগলি বিজেপি নেতৃত্ব সিঙ্গুরকে একুশের ভোটে উর্বর জমি হিসেবে ধরছে। তার মধ্যেই সিঙ্গুরের বিধায়কের এহেন সুর শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ গাঢ় করবে বলেই মত অনেকের।