
শেষ আপডেট: 8 October 2021 13:05
এবার বিদ্যাসাগরের সেই কৃষাণভোগ আমের ছোঁয়া সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেল পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার কাছে নয়াচরে। গঙ্গার বুকে এই দ্বীপে শোভা পাবে বিদ্যাসাগরের ছোঁয়া। কর্মাটাঁড়ের কিষাণভোগ আমের চারা নয়াচরে তাদের বর্ণ পরিচয় স্কুলে শুক্রবার রোপন করল 'পুরোনো কলকাতার গল্প সোসাইটি' (Purono Kolkatar Golpo)। স্কুলের পড়ুয়াদের পুজোর নতুন পোশাক, আরও কিছু উপহার সামগ্রী এদিন বিলি করা হয় সেখানে।
কলকাতার হেরিটেজ বাড়ি-ঘর, প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার তাগিদে যাত্রা শুরু করেছিল ‘পুরনো কলকাতার গল্প’। সেই কাজ চলছে আগের মতোই। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো কাজে সংগঠনকে যুক্ত করার প্রয়াস। আমফান, ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে এই সোসাইটি বিভিন্ন সময়ে পৌঁছে গেছে সুন্দবনের প্রত্যন্ত গ্রামে, দ্বীপে। ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা। সাগরদীপসহ একাধিক দ্বীপে ম্যানগ্রোভ রক্ষার কাজ শুরু করেছে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে।
আরও পড়ুনঃ আর্থিক মন্দা কাটাতে লক্ষ্মী বেশে মায়ের আগমণ গড়িয়ার ক্লাবে
পাশাপাশি চলছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিলি এবং পুনর্গঠনের কাজ। এরই পাশাপাশি শুরু হয়েছে গঙ্গার বুকে জেগে থাকা নয়াচরের অসহায় পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা। সেই প্রয়াসের অঙ্গ হিসাবেই মাথা তুলেছে বর্ণ পরিচয় স্কুল। বিভিন্ন জায়গা থেকে সহায়তা নিয়ে এই স্কুল চলছে নয়াচরের মাটিতে। পুজোর আগে এই নয়াচরের শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে শুক্রবার সেখানে উপহার সামগ্রী আর আমের তারা নিয়ে পৌঁছে যান 'পুরোনো কলকাতা গল্প'-র স্বর্ণালী চট্টোপাধ্যায়, জয়ন্ত সেনরা।
স্কুল প্রাঙ্গণেই পুঁতে দেওয়া হয় বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত কৃষাণভোগের চারা। স্কুলের বাচ্চাদের পরিচর্যায় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠবে এই গাছ। আসছে সরস্বতী পুজোয় এই গাছের পাতাতেই দেবীর আরাধনা করবে নয়াচরের শিশুরা। এই গাছের মধ্যে দিয়েই বিদ্যাসাগর জীবন্ত হয়ে থাকবেন নয়াচরের মাটিতে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'