দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগের দাবিতে খাদ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ আন্দোলনে বসলেন একদল চাকরিপ্রার্থী। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে খাদ্য ভবন চত্বরে বসে থাকেন আন্দোলনকারীরা। তোলেন স্লোগানও। মমতা বন্দ্যোাধ্যায়ের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একদিকে যেমন নতুন নিয়োগ নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে, অন্যদিকে শুরু হয়েছে প্যানেল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ। উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। আন্দোলনের পাশাপাশি আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন অভিযোগকারী চাকরি প্রার্থীরা।
খাদ্য দফতরে কেন এই অসন্তোষ? বিক্ষোভকারীদের দাবি, খাদ্য ভবনে বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য যে মেরিট লিস্ট বা মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তা মেনে নিয়োগ হয়নি। মোট ৯৫৭টি শূন্যপদ থাকলেও নিয়োগ হয়েছে মাত্র ১০০ জনের। অবিলম্বে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ নিয়োগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছেন মেধাতালিকায় নাম থাকা চাকরিপ্রার্থীরা।
যে ১০০ জনের খাদ্য ভবনের চাকরিতে নিয়োগ হয়েছে তাও প্রকাশিত মেধাতালিকা অনুযায়ী হয়নি বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। খাদ্য ভবনের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হয়েছিল। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। তারপর মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে। সমস্ত জেলা থেকেই এই পরীক্ষায় বসেছিলেন চাকরিপ্রার্থী যুবক যুবতী।
সম্প্রতি এসএসসি-র উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমনিতেই দীর্ঘ দিন বন্ধ রয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ। কিছুদিন আগে কমিশনের তরফে নিয়োগের ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেখানে কেবল প্রার্থীদের নাম ছিল, প্রাপ্ত নম্বর ছিল না। অনেকেই দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। নিয়োগের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে উচ্চ আদালত।
কিন্তু আদালতের নির্দেশে দিন কয়েক পর ফের নতুন মেধাতালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। তাতে প্রার্থীদের নামের সঙ্গে নম্বরও উল্লেখ করে দেওয়া থাকে। এমনকি যারা সুযোগ পাননি তাঁদের নাম নম্বরও প্রকাশ করে কমিশন। তারপর উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগের উপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার থেকে ইন্টারভিউ চালু হওয়ার কথা।
কিন্তু এই এসএসসি নিয়োগ নিয়ে আদালতের সবুজ সংকেতের পরেও কেউ কেউ দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। আলাদা করে অভিযোগ জানাচ্ছেন তাঁরা। এবার খাদ্য ভবনের নিয়োগ নিয়েও অনুরূপ অসন্তোষ দেখা গেল।