
শেষ আপডেট: 6 February 2020 14:05
আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পরিবার, ছেলের পুরনো স্কুলের জুতো ছিঁড়ে যাওয়ার পরে নতুন করে আর জুতো কেনা সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি, তাঁদের আর্থিক অবস্থার কথা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না তাঁরা। দেবাংশুর মা লীলা সান্যাল তখন বলেছিলেন, “দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে সংসার চলছে। এরমধ্যে ছেলেকে আর নতুন জুতো কিনে দিতে পারিনি। তা ছাড়া বই খাতা-ত্তর কেনারই তো কত খরচ কিন্তু জুতো কিনে দিতে পারিনি বলে আমার ছেলের পড়াশোনা হবে না! এমনটা হতে পারে? মাস্টারমশাইরা একথা না বুঝলে কে বুঝবেন!”
দেবাংশু জানায়, না থাকায় কালো জুতো পরে স্কুলে যেতে পারেনি তাই তাকে বের করে দেওয়া হয়। কেন কালো জুতো না পরে স্কুলে এসেছে সে সব কেউ জানতে চাননি।
ঘটনা জানতে পেরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রকাশ ফাউন্ডেশন’ এর সভাপতি নব্যেন্দু মৌলিক বুধবার ওই ছাত্রকে নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হন। শিক্ষার অধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “বিদ্যালয়ের এমন আচরণের জন্যই ছাত্ররা স্কুলছুট হচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুণ্ডু অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ওই ছাত্রের আর্থিক অসুবিধার ব্যাপারে তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “বিষয়টা যখন আমার নজরে এসেছে আমি অবশ্যই দেখব।” জলপাইগুড়ির স্কুল পরিদর্শক প্রাণতোষ মাইতি টেলিফোনে জানান, এই ধরনের ঘটনা একদমই কাম্য নয়। তাঁর কাছে অভিযোগ এলে অবশ্যই খতিয়ে দেখবেন।