দ্য ওয়াল ব্যুরো : ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড (Student credit card)। এই কার্ডের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার জন্য লোন পাবেন বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এখন দেখা যাচ্ছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে লোন পেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। অধিকাংশ ব্যাঙ্ক লোন দিতে রাজি হচ্ছে না। ফিরে যেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। এই অভিযোগ পৌঁছেছিল নবান্নের অলিন্দে। যার জেরে অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। এই সমস্যা দূর করতে শুক্রবারই জেলাশাসকদের মারফৎ ব্যাঙ্কগুলিকে কড়া বার্তা পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে প্রায় এক লাখ আবেদন জমা পড়েছে। তবে এই মোট আবেদনের মধ্যে ব্যাঙ্ক মাত্র ২২ হাজার আবেদন সদর দফতরে পাঠিয়েছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত লোনের অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ৪৯৩ জন ছাত্রছাত্রী। এমনকি অনেক জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লোন চাইতে গেলে পড়ুয়াদের কাছে বাড়ির দলিল বন্ধক চাইছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।
এই সমস্ত অভিযোগ পেয়েই নবান্ন এবার নড়েচড়ে বসল। শুক্রবার ব্যাঙ্কগুলিকে কড়া বার্তা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যসচিব। তবে এদিন তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষদের আবেদন করেছেন যাতে দ্রুত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জরুরি চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়।
সূত্রের খবর, বৈঠকের পরেও স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে লোন পাওয়া নিয়ে পুরোপুরি জট কাটেনি। এদিন পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ছাড়া আর কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এখনও পর্যন্ত তাদের সদর দফতর থেকে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লোন দেওয়ার জন্য অনুমোদন পায়নি। মুখ্যসচিবের স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন বাকি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা। যদিও তারা জানিয়েছেন সদর দফতর থেকে অনুমোদন পেলেই স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য তাঁরা ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তবে রাজ্য সরকারের এই স্টুডেন্ট কার্ডের লোন পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বৈঠকে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন বলে সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে।
সূত্রের আরও খবর, বৈঠকে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন তাঁরা প্রফেশনাল কোর্সগুলোর জন্যই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। বিষয়টি যেন ব্যাঙ্কগুলি একটু গুরুত্ব দিয়ে দেখে, বৈঠকে বলেছেন মুখ্যসচিব।
উল্লেখ্য, শুক্রবার নবান্ন থেকে সমস্ত জেলাশাসককে একটি বার্তা দিয়েছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। সেখানে তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে সাথ দিচ্ছে না বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাঙ্ক। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে শিক্ষা ঋণের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে না। সরকারি প্রকল্পকে পাত্তাই দিচ্ছে না বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি।
এমন যদি চলতে থাকে, তবে আগামী দিনে এই সমস্ত ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার কথা ভাববে রাজ্য সরকার। তিনি জেলাশাসকদের বার্তায় বলেছেন, এই সমস্ত বেসরকারি ব্যাঙ্কে সরকারের যত অ্যাকাউন্ট আছে তা সরিয়ে নেওয়া হবে। যে ব্যাঙ্ক রাজি থাকবে সরকারি প্রকল্পে সহায়তা করতে, তাদের কাছেই অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরিত করা হবে।
সূত্রের খবর, পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং ব্যাঙ্কগুলিতেও এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড নিয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠকে বসেও এই কার্ড নিয়ে জট কাটল না।