দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের সব বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফি ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে যে ফি আছে, তা ২০ শতাংশ কমাতে হবে ফি। নন অ্যাকাডমিক সমস্ত ফি মকুব করতে হবে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্কুলগুলিকে তিন জনকে নিয়ে একটি কমিটিও করতে হবে এ বিষয়টি দেখার জন্য। শুধু তাই নয়, অবিভাবকদের যাঁদের অবস্থা খারাপ, তাঁদের আর কোনও সুবিধা দেওয়া যায় কিনা সেটাও দেখবে এই কমিটি।
লকডাউনের গোড়া থেকেই বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ে একাধিক বার অভিযোগ উঠেছে, ঘনিয়েছে প্রতিবাদ। এপ্রিল মাসেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “প্রাইভেট বিদ্যালয়গুলিকে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয়বার জানানো হলো যে তারা ফি বৃদ্ধি এই মুহুর্তে করতে পারবে না। স্কুলের মাহিনা বাবদ টাকা না দিলে অনলাইনে শিক্ষায় যোগ দিতে না পারার সিদ্ধান্ত সঠিক নয় সবাইকেই সেই সুযোগ দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব যথেষ্ট কঠোর। আশা করি প্রাইভেট স্কুল গুলি সরকারের এই মনোভাব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন এবং অভিভাবকদের উপর মানসিক চাপ তৈরি করা থেকে বিরত থাকবেন।”
বিভিন্ন স্কুলে এই নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন অভিভাবকরা। প্রশ্ন তোলেন, স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন আনুষঙ্গিক সমস্ত ফি দিতে হবে, কেনই বা বাড়ানো হবে ফি। শুধু কলকাতায় নয়, জুন মাসে ফি-বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল শিল্পাঞ্চলও। করোনার জেরে দেশজুড়ে লকডাউন চলায় চার মাস স্কুল বন্ধ রয়েছে। লকডাউন ধাপে ধাপে ওঠার পরে আনলক পর্ব চালু হতেই বিভিন্ন বেসরকারি ইংরেজি স্কুল থেকে নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে অভিভাবকদের।
অভিভাবকদের দাবি, ফি বাড়ানো চলবে না। বিগত চার মাস ধরে স্কুল বন্ধ তবু স্কুল কতৃর্পক্ষ ল্যাব, কম্পিউটার ক্লাস, লাইব্রেরি এমনকি বিদ্যুতের খরচও নিচ্ছেন। তাঁদের মতে এই ভাবে চার্জ নিয়ে স্কুলগুলি আদতে অবৈধ কাজ করছে।
জুলাই মাসে ফি বৃদ্ধি করতে বারণ করে স্কুল শিক্ষা দফতর ফের নির্দেশ পাঠায় রাজ্যের সব বেসরকারি স্কুলের কাছে। তাতে বলা হয় রাজ্যের কোনও স্কুলই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে টিউশন ফি বাড়াতে পারবে না। কেউ যদি টিউশন ফি দিতে দেরি করে তবে সেটা মানবিক ভাবে দেখতে হবে। কোনও স্কুল পরিবহণ, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, স্পোর্টস, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির জন্য লকডাউনের সময়ে ফি নিতে পারবে না। এই সময়ে পড়ুয়াদের যে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে শুধু তার জন্যই ফি নেওয়া যাবে। পড়ুয়াদের কোনও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। কোনও অভিভাবক লকডাউনের সময়ে আর্থিক সংকটের জন্য ফি দিতে না পারলে পড়ুয়াকে অনলাইন ক্লাস থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
কিন্তু এই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন স্কুল ফি বাড়াতেই থাকে। এমনকি সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে জানা যায়, স্কুলের মাসিক বর্ধিত ফিজ দিতে না পারায় একাদশ শ্রেণির ২৩ জন ছাত্রছাত্রীকে অনলাইন পরীক্ষায় বসতে দেয়নি দুর্গাপুরের সিবিএসসি বোর্ডের মান্যতা প্রাপ্ত ‘বিচউড স্কুল’ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ওঠে, প্রতিদিন নিয়মিত অনলাইন ক্লাস নেওয়ার পর, পরীক্ষার দিন সকালে কোনও আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হয় মাসিক ফিজ জমা দিতে না পারা ছাত্র-ছাত্রীদের।
এই বিষয়টি কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দোপাধ্যায় এবং মৌসুমী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ ওই বেসরকারি স্কুলকে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করে ফি সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর নির্দেশ দেন। আজ ফের অন্য একটি মামলায় বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০ শতাংশ ফি কমাতে হবে।