দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বভারতীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যেন ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। একদিকে প্রেস বিবৃতি জারি করে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এত বড় ঘটনা ঘটেছে ক্যাম্পাসে। পাশাপাশিই তাঁদের বক্তব্য, গত বছর পৌষমেলায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে যে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে আগামী কাল সকাল থেকে ১২ ঘণ্টার অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্বভারতীর দাবি, তৃণমূলের মদতে ঘটেছে সাম্প্রতিক অশান্তি পর্বটি। এমনকি গন্ডগোলের আগে ডিএম ও এসপিকে আগাম জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
প্রেস বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, এই নিয়ে শান্তিনিকেতন থানায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করেছেন কর্তৃপক্ষ। সেই তালিকায় নাম রয়েছে দুবরাজপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তথা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী নরেশচন্দ্র বাউড়ি, গগন সরকার সহ কয়েকজনের। অভিযোগ, সোমবার বিশ্বভারতীর নির্মীয়মাণ পাঁচিল ও গেট যখন পে লোডার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়, তখন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নরেশচন্দ্র বাউড়ি।
এই দুই নেতাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে বলে দাবি করেছেন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তাঁরা গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন। একটি পাঁচিল নির্মাণকে ঘিরে যা ঘটে গিয়েছে, তাতে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত বলেই মনে করছেন তাঁরা।
জানা গেছে, রবিবার প্রায় ৩০০ জন অধ্যাপক-কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের দাঁড় করিয়ে পাঁচিল দেওয়ার কাজ শুরু করেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। কিন্তু সোমবার তাঁরা একই কাজ করতে এলে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় কিছু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন পাঁচিল তোলার কাজ আটকে দেন বলে অভিযোগ। একটি গেটও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। তা ছাড়া পাঁচিল তৈরির জন্য মাটি কেটে যে গর্ত করা হয়েছিল তাতেও মাটি ফেলে বুঝিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। সব মিলিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বাঁধে বিশ্বভারতীতে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বভারতীর আর কোনও ফারাক থাকছে না। রবীন্দ্র ভাবাদর্শ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাবাবেগ সব কিছু ধ্বংস করে নরেন্দ্র মোদী সরকার এখন বিশ্বভারতীকে কংক্রিটের জঙ্গল বানানোর চেষ্টা করছে। বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে কাজে লাগিয়ে এই কাজ কেন্দ্র করতে চাইছে বলে অভিযোগ।
পাশাপাশি, গত বছর থেকেই পৌষমেলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্বভারতী। সাত দিন ধরে মেলা চলার কারণে যে বড় দূষণ ও ভিড় হয়, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন পড়ুয়ারাও। এদিকে মেলার ভিড় ও ব্যবসা সামাল দেওয়ার জন্যই পাঁচিল তুলতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। কারণ গত বছরে তিন দিনে মেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান তুলতে রাজি না হওয়ায় উপাচার্যের তরফে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেই সময়েই উপাচার্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলে ব্যবসায়ীদের একাংশ।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে ১২ ঘণ্টার অনশন শুরু করা হবে কাল সকাল থেকে, এমনটাই জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি পড়ুয়াকা জানিয়েছেন, চার ফুটের ছোট পাঁচিল তুললেই উদ্দেশ্য পূরণ হতো।