
শেষ আপডেট: 15 July 2022 07:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) বিঁধতে তৃণমূল ইদানিং একটা স্লোগানকে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তা বলতে গিয়ে শুভেন্দুর বাবা তথা কাঁথির প্রবীণ সাংসদ শিশির অধিকারীকেও (Sisir Adhikari) টানে তৃণমূল-- 'চোর চোর চোরটা, শিশিরবাবুর ছেলেটা'। শিশিরবাবু এখনও খাতায় কলমে তৃণমূলের সাংসদ। তাঁর আরএক ছেলে দিব্যেন্দুও (Dibyendu Adhikari) তৃণমূলেরই সাংসদ। এই অধিকারী বাবা-ছেলের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব আলোকবর্ষ সমান। সেই তাঁরা কাকে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে (Presidential election 2022) ?
এ নিয়ে খোলাখুলি দ্য ওয়ালের কাছে মুখ খুললেন শিশিরবাবু এবং দিব্যেন্দু। তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দুকে প্রশ্ন করা হয়, ভোট দিতে যাবেন? তিনি জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে তিনি দিল্লি যাবেন। তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দলের সাংসদরা কলকাতায় ভোট দেবেন। কিন্তু তাঁর কাছে এ ব্যাপারে কোনও নির্দেশ যায়নি বলে জানিয়েছেন তমলুকের সাংসদ।
দিব্যেন্দুকে এরপরেই প্রশ্ন করা হয়, কাকে ভোট দেবেন? যশবন্ত সিনহা নাকি দ্রৌপদী মুর্মু? দিব্যেন্দু অবশ্য এই প্রশ্নের জবাবে একটা ছোট্ট টুইস্ট রেখে দিয়েছেন। অনেকটা লিও মেসির হাফ টার্নের মতো শৈল্পিক। দিব্যেন্দু বলেন, "রাষ্ট্রপতি ভোট হয় গোপন ব্যালটে। দল যাঁকে সমর্থন করছে সেই যশবন্ত সিনহাকেই সমর্থন করব।" বলার অপেক্ষা রাখে না কী টুইস্ট করতে চেয়েছেন দিব্যেন্দু।
তাঁকে এও প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূল কি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে? দিব্যেন্দু বলেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এ নিয়ে দলের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যম দেখে তিনি জেনেছেন, তৃণমূল যশবন্তকে সমর্থন করছে। তাই তাঁকেই ভোট দেবেন। সেইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ভোট হবে গোপন ব্যালটে। অর্থাৎ কে কাকে ভোট দিয়েছেন পুরোটাই চাপা থাকবে। কেউ জানতে পারবে না।
এদিন সকালে বেশ কয়েকবারের চেষ্টায় ফোনে ধরা যায় শিশির অধিকারীকে। প্রবীণ সাংসদ বলেন, "আমার শরীর তো বিশেষ ভাল নয়। ডাক্তারবাবুরা এখনও দিল্লি যাওয়ার অনুমতি দেননি। তাঁরা অনুমতি দিলে অবশ্যই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে দিল্লি যাব।" দিব্যেন্দুর মতোই তাঁর বাবাকে প্রশ্ন করা হয়, গেলে কাকে ভোট দেবেন? ছেলে যেমন যশবন্তের নাম বলে গোপন ব্যালটের মোচড় রেখেছিলেন বাবা সে পথে হাঁটলেন না। শিশির অধিকারীর ভোট কার পক্ষে যাবে, এই প্রশ্নে নিরুত্তর রইলেন প্রবীণ সাংসদ।
এখানে বলে রাখা ভাল, শিশিরবাবুর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ করার আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে সেই আর্জি জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ব্যাপারটা কদ্দূর এগোলো তা নিয়ে স্পিকারকে বার দুয়েক তাগাদাও দিয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের বিধায়কদের রোল কল করছেন ববিরা, কলকাতায় ক্যাম্প করে থাকতে বলছেন কেন
একুশের বিধানসভার আগে পূর্ব মেদিনীপুরে অমিত শাহের সভামঞ্চে হাজির হয়েছিলেন শিশিরবাবু। বিজেপির মঞ্চ থেকে ভাষণও দিয়েছিলেন। কিন্তু দিব্যেন্দুকে এ ভাবে সরাসরি পদ্মপতাকার নীচে দেখা যায়নি। তবে সরকারি অনুষ্ঠানে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হলদিয়ায় এসেছিলেন সেই সময়ে গোটাটার ব্যবস্থাপনা দেখভাল করেছিলেন শিশির-পুত্র।
শন্তিকুঞ্জের প্রতি তৃণমূলের যে বিশ্বাস উঠে গিয়েছে সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের কথা শুনলেই তা বোঝা যায়। তবে দিব্যেন্দু যে ভাবে যশবন্তকে সমর্থন ও গোপন ব্যালটের কথা একইসঙ্গে বলেছেন সে ব্যাপারে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "তাই যদি হবে, ওঁরা কলকাতায় ভোট দিতে আসুন, ঘটা করে দিল্লি যাওয়ার কী আছে? তার আগে ১৭ জুলাই ওঁদের পাড়া কাঁথিতে একুশে জুলাইয়ের সমর্থনে তৃণমূল সভা করবে। ওখানে আসুন।"