সদ্য এক বছর পার করা মেয়েকে বাঁচাতে আর্জি রিকশাচালক বাবার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গলস্টোন। দূরারোগ্য রোগ মোটেই নয় কিন্তু যাঁদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাঁদের এখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। জন্ম ইস্তক ভুগতে থাকা মেয়েটাকে অপারেশনের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে নিয়ে যেতে শিলিগুলি অথবা কলকাতায়। কিন
শেষ আপডেট: 15 January 2020 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গলস্টোন। দূরারোগ্য রোগ মোটেই নয় কিন্তু যাঁদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাঁদের এখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। জন্ম ইস্তক ভুগতে থাকা মেয়েটাকে অপারেশনের জন্য দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে নিয়ে যেতে শিলিগুলি অথবা কলকাতায়। কিন্তু টাকা জোগাড় হবে কী করে!
বালুরঘাট খাদিমপুর বটতলায় একটা ভাড়া বাড়িতে থাকেন খোকন দাস, পেশায় রিকশাচালক। তিন বছর আগে গোপালগঞ্জের বুল্টি সাহার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ২০১৮ সালের অগস্টে গর্ভধারনের মাত্র সাড়ে ছ’মাসের মধ্যেই বুল্টি জন্ম দেন এক কন্যার, জন্মের সময় তার ওজন ছিল মাত্র ন’শো গ্রাম। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে প্রিম্যাচিওর বেবি। কন্যাটির নাম রাখা হয় পারুল।
প্রিম্যাচিওর বেবি হওয়ার জন্য জন্ম থেকেই অসুস্থ ছিল পারুল। মালদার একটি হাসপাতালে আইসিসিইউতে চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়।

এক বছর তিন মাস বয়সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েছে পারুল। তার অগ্ন্যাশয় বা গলব্লাডারে ধরা পড়েছে পাথর। একটি পাথরের ব্যাস ৮.৯ মিমি। মাত্র এক বছর তিন মাস বয়সের শিশুর গলব্লাডারের পাথর অপারেশন করে বার করার ঝুঁকি নিতে নারাজ বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তাঁরা পরামর্শ দিয়েছেন শিলিগুড়ি অথবা কলকাতায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে।
অভাবের সংসারে চিকিৎসার টাকা জোগানোই যেখানে দুশ্চিন্তার কারণ সেখানে আবার অন্য শহরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা! যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ জুটবে কী ভাবে! সে ক’দিন তো আবার রোজগারও বন্ধ থাকবে। তা হলে কি বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখবেন সবে এক বছর পার করা শিশুটিকে! তাকে যে করেই হোক বাঁচাতে চাইছেন খোকন।
সন্তানকে বাঁচাতে এখন তাঁরা সাহায্য চান। অনেকে যদি সামান্য করেও টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করেন তাহলেও তো একের বোঝা অচিরেই দশের লাঠি হয়ে যাবে। প্রাণে বাঁচবে একরত্তি মেয়েটা।
অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে, অনেক ক্লাবও আছে যারা দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ায়। পারুলের পাশে কি কেউ দাঁড়াবে না? এখন দিনরাত এই কথাই ভাবছেন খোকন ও বুল্টি। তাঁরা ভাবছেন যদি কোনও ভাবে সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়।