দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: উত্তর মালদহে গণবিবাহে গন্ডগোলের জেরে আলিপুরদুয়ারে গণবিবাহের প্রচারের মাইক খুলে ফেলল পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার শ্রীহরি সৎসঙ্গ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উদ্যোগে আলিপুরদুয়ার শহরের বিএম ক্লাব ময়দানে গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শহর-লাগোয়া চা বাগান-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮০ জোড়া যুগলের বিয়ে হওয়ার কথা সেখানে। রবিবার তারই প্রচার চলছিল মাইকে। আলিপুরদুয়ার চৌপথি থেকে সেই মাইক আটক করে থানায় নিয়ে আসে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে এদিন উদ্যোক্তাদের থানায় ডেকেও পাঠানো হয়। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের বৈঠক হয়। যাঁদের গণবিবাহ দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের এবং উদ্যোক্তাদের নাম-ঠিকানা চেয়ে পাঠায় পুলিশ। সেগুলো খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পরেই পুলিশ এই গণবিবাহ নিয়ে কি অবস্থান নেয়, তা জানানো হবে।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, “আমাদের কাছে খবর আছে, জোর করে কিছু মানুষকে এখানে একটি ধর্মের মন্ত্র উচ্চারণ করিয়ে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই কারণেই আমরা উদ্যোক্তাদের ডেকে তাদের কাছে সকলের বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছি। আমরা চাইছি না কোথাও কোনও আইন শৃঙ্খলার অবনতি হোক। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখে এই গণবিবাহ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।”
এদিকে গণবিবাহের উদ্যোক্তারা পুলিশের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, এখানে সকলেই হিন্দু ধর্মের যুগল। স্বেচ্ছায় তাঁরা এই গণবিবাহের আসরে বসছেন বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তা রতন তরফদার বলেন, “যাঁদের বিয়ে করার সামর্থ্য নেই টাকার অভাবে, তাঁদের বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। সকলের অনুমতি নিয়েই এই গণবিবাহের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তার পরেও পুলিশের এই ভুমিকার আমরা নিন্দা করছি। বিয়ের সব জোগাড় হয়ে গেছে। এই অবস্থায় মাত্র এক দিন আগে বিয়ে বন্ধ করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। আমরা পুলিশকে সব তথ্য দেব। কিন্তু তারা আমাদের অনুমতি দিক আর না দিক, এই গণবিবাহ হবেই।”
উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার শহরের বুকে এভাবে আগে কোনও দিন গণবিবাহের অনুষ্ঠান হয়নি। মূলত চা বাগানেই এই গণবিবাহের রীতির প্রচলন ছিল। কিন্তু শহরের বুকে হঠাৎই কোনও হিন্দু সংগঠন এভাবে গণবিবাহের আয়োজন করায়, শহরের রাজনৈতিক শিবিরেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা হচ্ছে।