
শেষ আপডেট: 21 August 2024 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বেলাশেষে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে কলকাতা পুলিশের এএসআই অনুপ দত্তর দৌড়ের ছবি দেখে হইচই পড়েছিল। বুধবার আর এক পুলিশকর্মীর দৌড় দেখল শিলিগুড়ি।
এদিন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম থেকে মিছিলের ডাক দিয়েছিল এবিভিপি। এই মিছিলে এবিভিপি-র সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি পোড়ানোর চেষ্টা করতেই তৎপর হলেন এক পুলিশ কর্মী। এবিভিপির সমর্থকদের হাত থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি একরকম ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দিলেন ওই পুলিশকর্মী! সেই দৌড় দেখেই আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ছাত্ররা।
এদিন শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয় মিছিল। সফদর হাসমি চক, হিলকার্ড রোড হয়ে মহকুমাশাসকের দফতর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়। এরপর পুলিশের অনুমতিতে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল মহকুমাশাসকের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেন। তারপরেই বাঁধে অশান্তি। এবিভিপির সমর্থকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়।
রাস্তা অবরোধ করে সভাও করতে শুরু করে এবিভিপির নেতা কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সভাতেই মমতার একটি ছবিতে আগুন দিতে যান কয়েক জন। তখনই সিভিল ড্রেসে থাকা এক পুলিশকর্মী ভিড়ের মধ্য থেকে আচমকা বেরিয়ে এসে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবিটি ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেন! আচমকা এমন কাণ্ডে হতভম্ভ হয়ে পড়েন এবিভিপির কর্মীরা। তারপরেই ওই পুলিশকর্মীর পিছনে ছুট লাগান তাঁরা। কোনওরকমে তা তুলে দেন সহকর্মীদের হাতে।
এবিভিপির সদস্যরা বারবার ছবি ফেরত চাইলেও পুলিশ অবশ্য তা ফেরত দেয়নি। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অন্য একটি ছবি এনে পোড়ান এবিভিপি সমর্থকেরা। এবিভিপির সাধারণ সম্পাদক শিবাঙ্গী খারবেল বলেন, ‘‘মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর আমলেই মহিলারা সুরক্ষিত নন। রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানাচ্ছি আমরা।’’ দার্জিলিং জেলা তৃণমূল মুখপাত্র বেদব্রত দত্ত পাল্টা বলেন, ‘‘আমরাও বিচার চাই। কিন্তু বিরোধীদের আন্দোলন এখন বিচারের বদলে মুখ্যমন্ত্রী-বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এটা বাংলার মাটি বলেই সম্ভব। ভারতের অন্য কোনও রাজ্যে সম্ভব নয়।’’