
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 December 2024 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার মালদহের চাঁচলে অজ্ঞাত পরিচয় মহিলার অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। যার জেরে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনা চাঁচল থানার মালতীপুর কালীবাড়ি এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দারা মহিলার দেহ দেখতে পান। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলে তারাই এসে দেহ উদ্ধার করে। তখনও ওই মহিলার নাম-ধাম জানতে পারেনি তদন্তকারীরা।
আজ শনিবার আমবাগানে পুড়িয়ে দেওয়া মহিলার পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরের জলাশয় থেকে একটি ব্যাগ খুঁজে পায় তদন্তকারীরা। যার মধ্যে আধার আর ভোটার কার্ড ছিল।
ঘটনাস্থল থেকে আগেই উদ্ধার হয়েছিল রক্তমাখা ছুরি, নাকছাবি, হার ইত্যাদি। এবাত ব্যাগ উদ্ধারের পর নাম-পরিচয় জানতেই পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা চাঁচল থানায় যায়। এক বৃদ্ধ জানান, মৃতা তাঁরই সন্তান।
পুলিশ সূত্রে খবর, চাঁচল থানার দক্ষিণ শহর এলাকায় মৃতার বাপের বাড়ি। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানা এলাকায় তাঁর বিয়ে হয়েছিল বছর দশেক হতে চলল।
বেশ কয়েক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ওই মহিলার। সন্তানও আছে দু'টি। বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, প্রাক্তন জামাইয়ের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার সামসি স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে ধৃত যুবকের সঙ্গে এক মহিলাকে দেখা গিয়েছিল। পরে স্টেশন থেকে ওই যুবক যখন বেরিয়ে যান, তখন আর মহিলাকে দেখা যায়নি। পুলিশ মনে করছে, বৃহস্পতিবার রাতেই খুন করা হয়েছিল চাঁচলের বাসিন্দা ওই মহিলাকে। প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেন খুনি।
গতকালই পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া স্টেশন থেকে এই ঘটনায় আবু তাহের নামে একজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই ব্যক্তির সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ নেই বলেই দাবি মৃতার বাপের বাড়ির।
তদন্তকারী অফিসাররা প্রাথমিক ভাবে মনে করছে অভিযুক্ত আবু তাহেরের সঙ্গে মৃতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁদের মধ্যে কোনও ঝামেলার থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ এও জানিয়েছে, মহিলার ডিএনএ পরীক্ষার পাশাপাশি ফরেন্সিক পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাকিটা তদন্তসাপেক্ষ। পরিবারের লোকজনকেও দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।