
শেষ আপডেট: 11 September 2022 04:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের কলকাতার কাছে দমদমে (Dum Dum) খোঁজ মিলল ভুয়ো কল সেন্টারের (fake call center)। ক্যুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী সেজে সেখানে হানা দিয়ে জালিয়াতি ব্যবসার হদিস মিলেছে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের (police)। জানা গেছে, একটি তিনতলা ফ্ল্যাটের দোতলায় সেই প্রতারণা চক্রের ঝা চকচকে অফিস আছে। জয়পুরে টাওয়ার বসানোর নামে প্রতারণা তদন্ত করতে গিয়েই বাঁকুড়া পুলিশের এই অভিযান বলে খবর মিলেছে।
এর আগে ছ’জনের একটি দলকে নিজেদের জালে তুলেছিল পুলিশ। গতকাল এই ঘটনায় নতুন করে আরও পাঁচজন অপরাধীকে ধরা হয়েছে বলে খবর মিলেছে। তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে বহু মোবাইল, ল্যান্ড ফোন ও সিম কার্ড। বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়ার ডিএসপি সুপ্রকাশ দাস বলেন, এই চক্রের মাস্টারমাইন্ডের খোঁজ চলছে। বিপুল পরিমাণ টাকা জালিয়াতি হয়েছে। চেষ্টা চলছে সেই সমস্ত টাকা উদ্ধারের।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুরের এক ব্যক্তিকে ফোন করে টাওয়ার বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাঁকে কিছু আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হবে বলেও টোপ দেয় প্রতারকরা। সেই ফাঁদে পড়ে জয়পুরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি দফায় দফায় প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা দেন। কিন্তু তারপরে টাওয়ার বসানো তো দূরে থাক, সেই কোম্পানি থেকে যোগাযোগ অবধি করা হয়নি। সেই টাকাও ফেরত পাননি। এরপরই বাঁকুড়ার জয়পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি।
অভিষেকের শ্যালিকাকে বিমানবন্দরে বাধা, রাজ্য ছাড়তে দিল না ইডি
ঘটনার তদন্তে নেমে মাসখানেক আগে নদিয়ার শান্তিপুর ও উত্তর ২৪ পরগনার এয়ারপোর্ট থানা থেকে ছ’জনের একটি গ্যাংকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ফোন নম্বরের সন্ধান মেলে। তার সূত্র ধরে পুলিশ হাওড়ার শ্যামপুরের বাসিন্দা দেবাশিস পাল নামে এক ব্যক্তির খোঁজ পায়।
পুলিসের দাবি, দেবাশিস তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাশবুক ও এটিএম কার্ড ক্যুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দমদমের ওই প্রতারণা চক্রের কাছে পাঠাত। গত বৃহস্পতিবারও দমদমের ওই অফিসে ক্যুরিয়ার পাঠানোর কথা হয়েছিল। সেইমতো এক পুলিশ আধিকারিক ক্যুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী সেজে ওই পাশবুক ও এটিএম কার্ড নিয়ে দমদমে যান। সেখানেই ভুয়ো কল সেন্টারটির এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে দেখা হয়। তার হাতে পাশবুক ও এটিএম কার্ড তুলে দেন ওই পুলিশ আধিকারিক। তারপরই ওই মহিলা কর্মীকে ধরে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।