
শেষ আপডেট: 9 June 2023 09:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোর-ডাকাত ধরতে তাঁরা দক্ষ। দু-একজনকে তুলে এনে লকআপে ভরে রাখা কোনও ব্যাপার নয়। কিন্তু চোর-ডাকাতের বদলে যদি থানায় এসে ঢোকে ছাগল, তাহলে যে কী বিড়ম্বনা হয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বংশীহারি থানার আইসি মনোজিৎ সরকার এবং অন্য পুলিশকর্মীরা। কেউ বা ছাগলের মলমূত্র পরিষ্কার করছেন, কেউ বা খুঁজে খুঁজে সতেজ কাঁঠালপাতা আনছেন। সে ছাগল আবার দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে গেলে তো কথাই নেই, সারা থানা ছুটছে পিছনে। এত পরিশ্রম তো গোটা এলাকা সামলাতেও হয় না!
এদিকে ছাগলের মালিকের খোঁজেও হন্যে পুলিশরা। কোথাও কোনও সূত্র মিলছে না। শেষমেশ বাধ্য হয়ে আইসি মনোজিৎ সরকার নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ছাগলের মালিকের সন্ধান চেয়ে। অনেকে আবার চলেও আসছেন ছাগল নিতে। কিন্তু নিজের ছাগল বলে প্রমাণ দিয়ে আইসি-কে খুশি করতে পারেননি তাঁরা। তাই ছাগল এখনও থানাতেই!
কিন্তু কোথা থেকে থানায় এল সে?
জানা গেছে, গত ২৯ মে রাতের বেলা পাথরঘাটা এলাকায় দুই ছিঁচকে চোরকে ধরে বংশীহারি থানার পুলিশ। ওই চোরেরা একটি টোটো-তে করে পালাচ্ছিল ছাগল চুরি করে। তাদের সঙ্গে জলের পাম্পসেট খোলার যন্ত্রপাতি ও ছিল। ধরা পড়ে চুরির কথা স্বীকার করে ওই দুই চোর। জানায়, ছাগলটি চুরির ছাগল। তার পরেই চোরাই মাল-সমেত চোরেদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক অবশ্য তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে চোরাই সে ছাগলের কী হবে! তাই তার ঠিকানা এখন থানা।
বংশীহারি থানার আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন, দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পাম্পসেট চুরির অভিযোগ ছিল। আমরা অনেকদিন ধরেই দু’জনকে খুঁজছিলাম। তার পরে ধরা পড়ে ওরা। সঙ্গের ছাগলটা ওদের নিজেদের নয়। চুরিই করেচে। তবে ধরা পড়ার পরেও প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ প্রমাণ ও সাক্ষী দেখাতে পারছেন না।
ফলে অনেকেই বলছেন, সব মিলিয়ে এখন বংশীহারী থানার অবস্থা পাগলাগারদ, থুড়ি ছাগলাগারদের মতো। চোরডাকাতের বদলে সেখানে গারদের ওপারে রাখা হয়েছে ছাগলকে। তবে চোরের মতো নয়, রীতিমতো রাজার হালেই আছে সে। যত্নে কোনও ত্রুটি নেই। এখন কবে তার মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়, সেই অপেক্ষাতেই আছেন সকলে।
কালিয়াগঞ্জ কাণ্ড: বিচারপতি মান্থার দুই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য