
শেষ আপডেট: 3 May 2023 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সাপে কাটা শিশুকে ঝাড়ফুঁক করতে গিয়ে দেরি (Polba child bitten by snake)। হাসপাতালে (hospital) নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু চার বছরের ওই শিশুর। মর্মান্তিক এই ঘটনা সামনে আসতেই ফের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজ্ঞানমনস্করা। কুসংস্কার (Superstition) দূর করতে পোলবার সুদর্শন গ্রামে পৌঁছল ব্লক প্রশাসন। কিন্তু আদতে তাতে লাভ কতটা হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। কারণ সাপে ছোবল মারলে ওঝার কাছে না গিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য লাগাতার প্রচার চললেও মানুষের যে হুঁশ ফেরেনি, এদিনের ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল তা।
পোলবার সুদর্শন গ্রামের সুরজিৎ বাউল দাস গতকাল বাড়ির কাছে একটি মাঠে খেলা করছিল। হঠাৎই একটি গর্তে হাত ঢুকিয়ে ফেলে চার বছরের ওই শিশুটি। গর্তে থাকা বিষধর সাপ ছোবল মারে তার হাতে। জানতে পেরে শিশুটির ঠাকুমা তাকে মনসাতলায় নিয়ে যান। সেখানে কিছুক্ষণ সময় নষ্ট হয়। সেখান থেকে আবার তাকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেসময় ওঝা বাড়িতে না থাকায় বাধ্য হয়ে গ্রামের অন্যদের সঙ্গে কথা বলে পোলবা ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা শিশুটিকে দেখেই জানিয়ে দেন আগেই মৃত্যু হয়েছে তার। পরিবারের লোকজন এরপর শিশুটিকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেও চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন মৃত্যু হয়েছে শিশুর। ময়নাতদন্তের পর শিশুটির দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সাপের ছোবলে শিশুর মৃত্যুতে গ্রামবাসীদের কুসংস্কারের পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কুসংস্কার দূর করতে গ্রামে পৌঁছয় পোলবা ব্লক হাসপাতাল ও পোলবা ব্লক প্রশাসনের একটি দল। সেই দলে ছিলেন সর্প বিশারদ চন্দন ক্লেমেন্ট সিং। গ্রামে গিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসনের কর্তারা। জানান, সাপে কাটা রোগীকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ওঝার কাছে নিয়ে গেলে তার চিকিৎসা অনেকটা দেরি হয়ে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সাপের প্রকৃতি, কোন সাপ বিষধর, কোন সাপ কামরালে দ্রুত বিষ রক্তে মিশে শরীরে ছড়িয়ে পরে তা বুঝিয়ে দেন চন্দন।
পোলবা ব্লক স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কুণাল মজুমদার জানান, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই ওই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। সাপে ছোবল মারার অনেকটা পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শিশুটিকে। যখন নিয়ে যাওয়া হয় তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “গ্রামের মানুষদের বোঝানো হয়েছে, সাপে ছোবল মারলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে ভ্যাকসিন মজুত রাখা আছে। তারা যদি আগে শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন তাহলে এই ঘটনা এড়ানো যেত। একজন সাপে কাটা রোগীও যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়, সেটাই আমরা চাই।
ওঝার উপর ভরসা রেখে শুক্রবার রাতে প্রাণ খোয়ান বাঁকুড়ার এক সাপে কাটা বধূ। ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করানোর পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মাতৃদুগ্ধ পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই বধূর শিশু সন্তানও। এই ঘটনার পরে গ্রামে গিয়ে সচেতনতা প্রচার চালায় বিজ্ঞান মঞ্চ।
পুলিশের গুলিতেই কালিয়াগঞ্জে যুবকের মৃত্যু হয়েছে, বললেন বিচারপতি মান্থা