দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজই দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব একবার এসে নিজের চোখে বাংলার বিপর্যস্ত পরিস্থিতি দেখে যেতে। জানা গেছে, কাল অর্থাৎ শুক্রবারই আসছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন উমফান-বিপর্যয় নিয়ে। পাশাপাশি তিনি নিজেও আকাশপথে পরিস্থিতি ঘুরে দেখতে পারেন।
গত কাল অর্থাৎ বুধবার রাজ্যে আছড়ে পড়েছে সুপার সাইক্লোন উমফান। দুই চব্বিশ পরগনা ও কলকাতার বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঝড়ের প্রভাবে। আরও বেশ কয়েকটি রাজ্য বিপর্যস্ত। এর পরে আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানান, সবরকম সাহায্য করবে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী মোদীও টুইট করে পাশে থাকার বার্তা দেন।
দুপুর ১.৫০-এ ট্যুইট করে মোদী লেখেন, "ঘূর্ণিঝড় উম্পুনে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ছবিতে দেখলাম। কঠিন এই সময়ে গোটা দেশই পশ্চিমবঙ্গের পাশে রয়েছে। রাজ্যের মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছে দেশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
জানা গেছে, আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১০টা ১৫ নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরে হেলিকপ্টারে করে যাবেন বসিরহাট। আকাশপথে ঘুরে দেখবেন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জের দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলবেন সম্ভব হলে। প্রশাসনিক বৈঠক করবেন বসিরহাটে। গোটা যাত্রীপথে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে বসিরহাট থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন।
যদিও বিরোধীপক্ষের তরফে সমালোচনা করা হয়, কেন এখনও জাতীয় বিপর্যয় বলে ঘোষণা করা হল না উমফানকে। কেনই বা কেন্দ্রীয় স্তর থেকে কোনও সাহায্যের অঙ্ক ঘোষণা করা হল না। এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, একবার ভিজিট করুন। নিজে চোখে পরিস্থিতি দেখলেই বুঝতে পারবেন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “উমফানের জন্য রাজ্যে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে তা কেন্দ্রের কাছে পেশ করা হবে। তার পর দেখা যাক কত কী দেয় কেন্দ্র”।
তবে দিল্লির সাহায্য পাওয়ার আগে রাজ্য সরকার আপাতত ক্ষতিপূরণের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেন, “পাই পয়সা দেখে খরচ (ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য) করতে হবে। একবার কাজ করলে তাতে যেন তিন বছরের জন্য হাত দিতে না হয়।” একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে এ পর্যন্ত ৭২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। কলকাতায় ১৫ জন, হাওড়ায় ৭ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭ জন, পূর্ব মেদিনীপুরে ৬ জন, হুগলিতে ২ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৮ জন, নদিয়ায় ৬ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রত্যেকের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হবে রাজ্যের তরফে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “এ সময়ে কেন্দ্রের উচিত সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের সাহায্য করার। দেখা যাক কী হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব রাজ্যে এসে নিজে পরিস্থিতি দেখতে।” এর পরেই জানা গেল মোদী নিজেই রাজ্যে আসছেন। এবার তিনি কী ঘোষণা করেন, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।