দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬ বছরের পুত্রসন্তানকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে কষ্ট হবে জেনেও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে পিছপা হননি পূজা ভার্মা। এজন্য তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মা হিসাবে পূজা সাহসী, ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা খুব সহজ ছিল না, বলেছেন তিনি।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের সেক্টর ৬ এর বাসিন্দা পূজা ও তাঁর স্বামী গগন কৌশিক করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হন। পূজা, গগন তাঁদের ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন। গত এপ্রিলে দুজনের কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ার পর পূজা, গগন স্থির করেন, তিনজন তিনটে আলাদা ঘরে আইসোলেশনে থাকবেন। ছেলের সংক্রমণ ধরা পড়েনি, তাকে তো রক্ষা করতে হবে!
পূজা জানিয়েছেন, তাঁরা মানিয়ে নিতে পারলেও ৬ বছরের বাচ্চার পক্ষে মা, বাবার থেকে আলাদা থাকা খুবই কঠিন ছিল। কেননা সে বোঝেই না, করোনাভাইরাস কী বা কোভিড বিধির কী গুরুত্ব, কেন বাবা, মা থেকে আলাদা থাকতে হবে তাকে। সে হতবাক হয়ে ভাবে, কী এমন দুষ্টুমি করল যে, তাকে আলাদা ঘরে থাকতে হবে!
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে পূজা মা হিসাবে ছেলের থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা ব্যাখ্যা করেছেন কবিতার ছন্দে। সেটি পড়ে তাঁকে জবাবি চিঠি পাঠিয়ে পূজার পরিবারের কুশল সংবাদ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। লিখেছেন, এটা জেনে খুশি হলাম, যে কঠিন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনি, আপনার পরিবার সাহসের সঙ্গে কোভিড ১৯ নিয়মবিধি পালন করে এই রোগের সঙ্গে লড়াই করেছেন। শাস্ত্রও আমাদের শিখিয়েছে, বিপদ, দুর্যোগের মধ্যে ধৈর্য্য হারাতে নেই, সাহস রাখতে হয়, বলেছেন মোদী।
পূজার কবিতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী, বলেছেন, একজন মায়ের নিজের সন্তানের থেকে দূরে থাকার উদ্বেগ, যন্ত্রণা দারুণ ফুটে উঠেছে তাতে। পূজা তাঁর সাহস ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনার জোরে জীবনে এগিয়ে যাবেন, ভবিষ্যতে যে কোনও চ্যালেঞ্জের সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করবেন বলে আস্থা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
কঠোরভাবে কোভিড-১৯ আইসোলেশন বিধি পালন করায় ছেলের কিছু হয়নি, জানিয়েছেন গগন। তিনি, তাঁর স্ত্রীও পুরোপুরি সেরে উঠেছেন।