দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: এক চিকিৎসকের দান করা প্লাজমা দিয়ে শিলিগুড়িতে শুরু হচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই। মঙ্গলবার থেকেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল শহরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। ওই চিকিৎসক ডা: অনির্বাণ রায় জানান, এখনও রক্ত নেওয়া হয়নি তাঁর। তবে এই প্রক্রিয়ার সরিক হতে তিনি পুরোপুরি তৈরি।
সরকারি তত্ত্বাবধানে এবং রাজ্যে গঠন করা কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্ক টিমের উদ্যোগেই করোনা চিকিৎসায় এই নতুন দিগন্ত খুলতে চলছে শিলিগুড়িতে। এই উদ্যোগের কথা জানাজানি হতেই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে চর্চা। মনে সাহস পাচ্ছেন শহরের মানুষ। তাঁদের সারিয়ে তোলার ব্যাপারে আশার আলো দেখছেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তাররাও। তার উপরে করোনাজয়ী একজন চিকিৎসক এ ব্যাপারে এগিয়ে আসায় খুশি চিকিৎসক মহলও।
গোটা দেশেই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এ রাজ্যও ব্যতিক্রম নয়। রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ সাফল্যের মুখ দেখেছে প্লাজমা থেরাপি। ভারতের বিভিন্ন শহরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করে করোনা চিকিৎসার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন পাওয়ার পর শিলিগুড়ি শহরেও সেই চিকিৎসা শুরু হতে চলেছে।
করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারকে সাহস জোগাতে কলকাতার পাশাপাশি শিলিগুড়িতে কোভিড কেয়ার নেটওয়ার্ক কাজ শুরু করেছে। সেই টিমের এক চিকিৎসক অনির্বাণ রায় সদ্য করোনা থেকে সেরে উঠেছেন। তিনিই এবার এগিয়ে এলেন করোনা চিকিৎসার জন্য প্লাজমা দিতে। তাঁর দেওয়া প্লাজমাতেই শহরের প্রধাননগরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা হবে।
এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে করোনামুক্ত রোগীর শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি আক্রান্তের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। তাতেই জব্দ হতে পারে এই মারণ ভাইরাস। সেল সেপারেটর মেশিন ব্যবহার করে চলে এই চিকিৎসা। উত্তরবঙ্গ করোনা নিয়ে কাজ করা কোভিড নেটওয়ার্ক টিমের কো-অর্ডিনেটর ডাঃ কল্যাণ খান বলেন, ‘‘এটা আমাদের কাছে বড় সাফল্য হতে চলছে। একজন চিকিৎসক তাঁর প্লাজমা দান করছেন। তারপরেই শিলিগুড়িতে প্রথম প্লাজমা থেরাপি শুরু হচ্ছে। আমরা খুশি হব আক্রান্ত যেদিন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরবেন, সেদিন।’’