দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: খোঁজ চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। শেষমেশ রবিবার পুলিশের জালে ধরা পড়ল সে। মোটেই ছিঁচকে চোরডাকাত নয়। আন্তর্জাতিক জলদস্যু দল 'জনাব গ্যাং'এর মূল চক্রী জনাব বাইন।
সীমান্তের এপারে-ওপারে একাধিক অপরাধে তার নামে। নৌকা লুটপাট, মারধোর, ডাকাতি, মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণ—সবই রয়েছে সেই তালিকায়। দীর্ঘদিন ধরে নিজের নামেই চালাত একটা বড়সড় আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র। বাংলাদেশ আর ভারতের জলদস্যুদের নিয়ে যৌথভাবে তৈরি করা এই দলের নামও রাখা হয়েছে তারই নামে। 'জনাব গ্যাং'। এহেন আন্তর্জাতিক দুষ্কৃতীচক্রের চাঁই জনাব বাইনকে গ্রেফতার করল বসিরহাট থানার পুলিশ। এই গ্রেফতারের ঘটনাকে পুলিশবাহিনীর বেশ বড় সাফল্য বলেই মনে করছে উত্তর ২৪ পরগন জেলা প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বসিরহাট থানার ধলতিথা গ্রামে নাম গোপন করে লুকিয়ে ছিল এই বাংলাদেশি জলদস্যু। অপরাধের জগতে জনাব বাইন নামে পরিচিত হলেও, এই জলদস্যুর আসল নাম কী, তা নিয়ে এখনও ধন্ধে রয়েছে পুলিশ। বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায়।
সুন্দরবনের হেমনগর কোস্টাল থানা গত দু’মাস আগে ফারুক মোল্লা ও ইউসুফ মোল্লা নামে দুই জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করার পরই উঠে এসেছিল চাঞ্চল্যকর তথ্য। কালিন্দী-রায়মঙ্গল নদীতে মৎস্যজীবীদের নৌকা লুটপাট, মারধোর, ডাকাতি, মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণ, এসব তো আছেই। পাশাপাশি সীমান্ত নদীগুলোতে মৎস্যজীবীদের উপর লাগাতার হামলার খবর আসছিল। পুলিশের অনুমান এইসব কাজকর্মের নেপথ্যে ছিল আন্তর্জাতিক জলদস্যুদের দল 'জনাব গ্যাং'।
জনাবের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে বাংলাদেশের পুলিশ। সাতক্ষীরা জেলা কালিগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকরা তারপরেই পুরো বিষয়টি জানিয়ে সীমান্তের এপারে বসিরহাট প্রশাসনকে সতর্ক করে। তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রেখে প্রায় নাটকীয় কায়দায় অভিযান চালিয়ে রবিবার সকালে বসিরহাট থানার পুলিশ ধলতিথা গ্রাম থেকে জনাব বাইনকে গ্রেফতার করে। পরের সোমবার, তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
জনাব বাহিনীর বাকি জলদস্যুদের খোঁজেও সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে বসিরহাট থানার পুলিশ। এর পিছনে অন্য কোনও আন্তর্জাতিক অপরাধ-চক্রের যোগাযোগ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।