দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় সড়কের উপর উড়ালপুল, এলপিজি ইমপোর্ট টার্মিনালের উদ্বোধনে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধিত্বই ছিল না।
একুশে বাংলার সঙ্গে ভোট হবে কেরলেও। সেখানেও আরএসএস-বিজেপির সঙ্গে চোয়াল শক্ত করেই লড়ছে সিপিএম। তা সত্ত্বেও রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় তিরুবনন্তপুরমে এক গুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
এদিন কেরলে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, কোচি পোর্ট ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল ক্রুইজ টার্মিনাল, উইলিংডন দ্বীপে জলপথ পরিবহণের ফেরি ইত্যাদি এদিন আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। সেই মঞ্চে মোদী ও পিনারাই পরস্পরকে নমস্কার জানানোর যে ছবি দেখা গিয়েছে, সেটাই যেন এদিনের সেরা ফ্রেম।
পরে মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে বিজয়ন সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাহাত্ম্যের কথা তুলে ধরেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেরলবাসীদের খুশি হওয়ার কথা। বেশ কিছু প্রকল্প আজ শুরু হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকার সমষ্টিগত প্রয়াসে এই প্রকল্পগুলি গড়ে তুলেছে।”
কেরলের বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজের সূত্রে পশ্চিম এশিয়া তথা উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাস করে। এদিনের মঞ্চ থেকে তাঁদের উদ্দেশে আবার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রের সরকার তাঁদের জন্য কী কী করেছে তা তুলে ধরেন।
মাত্র সাত দিন আগে পরে হলদিয়া ও তিরুবনন্তপুরমের মঞ্চের দূরত্ব যেন কয়েক আলোকবর্ষ। ২০১৪ সালে কেন্দ্র মোদী সরকার গঠনের পর মাঝে কিছুটা সময় কেন্দ্র-রাজ্য শঠে শাঠ্যং বিশেষ দেখা যায়নি। বরং ওই সময়ে দেখা গিয়েছিল, সংসদে বেশ কিছু বিল পাশ করাতে তৃণমূল প্রকারান্তরে সুবিধা করে দিচ্ছে মোদী সরকারকে। দিল্লিতে কংগ্রেস, বাম, এনসিপি সহ বৃহত্তর বিরোধী জোটের সঙ্গে সে সময়ে তৃণমূলের কক্ষ সমন্বয়ে ভাটা ছিল। ঘটনাচক্রে আপাত দর্শনে সেই সময়ে আবার সারদা কাণ্ড নিয়ে সিবিআইয়ের তৎপরতাও শ্লথ হয়েছিল।
তার পর থেকে অধিকাংশ সময়ে দিল্লি-কলকাতা শঠে শাঠ্যংই বেশি দেখা গিয়েছে। সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো পরের কথা, কেন্দ্রের অনেক প্রকল্প বাংলায় চালুই করতে দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। অনেকের মতে, দ্বন্দ্বের কারণে বাংলার ক্ষতি বই লাভ হয়নি।
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদীও সম্ভবত এই কথাটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন। সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যদিও মুখে আনেননি দীনেশ। তবে বলেন, “কেন্দ্রের সঙ্গে অকারণে ঝগড়া করা আর খালি 'আমি আক্রান্ত' বলে চিৎকার করলে বাংলার উন্নয়ন কখনওই সম্ভব নয়। রাজনৈতিক মতের ফারাক থাকবেই, কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় করে চলা অপরিহার্য। সে জন্য ন্যূনতম সদ্ভাব রেখে চলাই সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর দাবি।”