দ্য ওয়াল ব্যুরো: পায়রা পোষার শখ অনেকেরই আছে। তাদের নিয়মিত খাওয়ানো, বাসা পরিষ্কার করার কাজ করেন তাঁরা। কিন্তু তাই বলে পায়রার জন্য পাকা ঘর! পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এমনই পায়রা-প্রাসাদ রয়েছে গোপালপুরের বনেদি সাহা পরিবারের। ৫০০-র বেশি পায়রা নিয়ে সে এক হইহই ব্যাপার সেখানে।
এই পায়রার পাকা ঘর অবশ্য আজকের নয়, তা শতাধিক বছরের প্রাচীন! সময়ে সময়ে নিয়মিত সংস্কার করা হয়। তাই পায়রা থাকা সত্ত্বেও সে ঘর একেবারে ঝকঝকে তকতকে। বিশাল থামের উপরে রয়েছে সে পায়রার বাড়ির টিনের ছাদ। ৫০০-র বেশি পায়রা থাকে এখানে। মাসে ৯০ কেজি ধান লাগে তাদের খাবার হিসেবে। সাহা পরিবারে পায়রা পোষার এবং যত্ন করার ইতিহাস অনেক পুরনো।
আনুমানিক ১১০ বছর আগে এই পায়রার ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কাজ করেছিলেন বিজয় কুমার সাহা। বিজয় বাবু ছিলেন বেঙ্গল জুট মিলের কর্মী। তবে চাষের জমির উপরে তাঁর আকর্ষণ ছিল। বিশেষ করে ধানের জমি কেনার বড় নেশা ছিল তাঁর। তাই ধান জমি কিনেওছিলেন প্রচুর পরিমাণে। সেইসঙ্গে বিজয় বাবু মনে করতেন, দেবী লক্ষ্মীর বাহন পায়রা। প্যাঁচা নয়। তাই পায়রাকে যত্ন করে বাড়িতে রাখলেই ঘরে থাকবেন সম্পদের দেবী।
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=sHYNZwgyDTM
সেই থেকেই তিনি পায়রা পুষতে শুরু করেন। সাধারণ পায়রা থেকে ভাল জাতের পায়রা-- সবই তিনি পুষতে থাকেন সে সময়ে। একে একে বাড়ে পায়রার সংখ্যাও। এক সময়ে তিনি ভাবেন, সম্পদের দেবীর জন্য চাই পাকা ঘর। তখনই তৈরি হয় কবুতর নিবাস, পায়রার জন্য পাকা ঘর। বিড়াল বা সাপে যাতে আক্রমণ করতে না পারে, সে জন্য পায়রার ঘর বানানো হয় উঁচু উঁচু পিলারের উপর।
বনেদী সাহা পরিবারের বর্তমান বংশধর, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ৭৪ বছরের শিবদাস সাহা বলেন, তিনি জন্ম থেকেই দেখছেন এই পায়রার ঘর।
বাংলায় বা তার বাইরে পায়রা পোষার নেশা নতুন নয়। কিন্তু পায়রার জন্য এমন পাকা বাড়ি আর কোথাও রয়েছে বলে শোনা যায় না।