
শেষ আপডেট: 11 August 2022 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়াতে (Social Media) কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটি এখন আতস কাচের তলায়। এক শিক্ষিকার ইনস্টাগ্রাম ছবির ভিত্তিতে তাঁকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার পর থেকেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। শিক্ষিকা জানিয়েছেন, ইউনিভার্সিটি তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর এবং অশ্লীল ছবি পোস্টের দায় এনেছে। উক্ত শিক্ষিকা ইউনিভার্সিটির (St Xavier's University) এই নীতি পুলিশির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়া। তার সঙ্গে ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের পদত্যাগেরও দাবি (petition) উঠেছে নেট দুনিয়ায়।
উপাচার্য ফেলিক্স রাজের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ার দাবি জানিয়ে চেঞ্জ ডট অরগ নামে অনলাইনে সই সংগ্রহ চলছে। মানে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা পিটিশন তৈরি হচ্ছে যেখানে গণদাবি হল ভিসির অপসারণ। অজস্র মানুষ সই করেছেন সেই পিটিশনে। ইউনিভার্সিটির প্রাক্তনী ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে উদ্দেশ করে এই পিটিশন দাখিল করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে ইউনিভার্সিটিকে এবং উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে।
২০২১ সালের অক্টোবর মাসে এক পড়ুয়া ইন্সটাগ্রামে ওই অধ্যাপিকার বিকিনি পরা ছবি দেখেছিল। তারপরেই পড়ুয়ার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তলব করা হয় অধ্যাপিকাকে। কেন বিকিনি পরে ছবি পোস্ট করেছেন তিনি, সেই প্রশ্নের জবাবদিহি করতে হয়।
প্রসঙ্গত, শিক্ষিকার বয়ান অনুসারে, সেন্ট জেভিয়ার্স ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে ওই ছবিগুলি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দিয়েছিলেন তিনি, যা মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য দেখা যায়। তাছাড়াও তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট 'প্রাইভেট' করা রয়েছে অর্থাৎ যে কেউ চাইলেই তাঁর ছবি দেখতে পারেন না। সমস্ত কথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাঁর কথা শুনতে রাজি ছিলেন না কেউই।
অধ্যাপিকাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়, সেই সঙ্গে চাকরিতে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। অক্টোবর মাসে চাকরি ছেড়ে দেন ওই অধ্যাপিকা। প্রসঙ্গত, তিনি নিজেও সেন্ট জেভিয়ার্সের প্রাক্তনী। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবমাননা করার ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাঁকে ৯৯ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে। ওই অধ্যাপিকা জানিয়েছেন, বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনও ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
কলকাতা হাইকোর্টে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপিকা।
এই ঘটনা শহর কলকাতার এখন প্রায় সবাই জানেন। যাঁরা এই ঘটনার সমর্থন করেন না তাঁদের এই সোশ্যাল মিডিয়ার পিটিশনে সই করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।