নোবেলজয়ী অভিজিৎ বাম ঘেঁষা, ওঁর তত্ত্ব খারিজ করেছে ভারতের জনতা: মোদীর রেলমন্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই দেশের একাধিক রাজ্যের ছোটখাট বিজেপি নেতারা তাঁকে বিভিন্ন ভাবে তোপ দেগেছেন। কেউ বলেছেন, উনি তো অমর্ত্য সেনের ছাত্র, ওঁর মতনই তো হবেন! কেউ বলেছেন, নোবেল তো নয় পেয়েছেন, কিন্তু উনি দেশের
শেষ আপডেট: 18 October 2019 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই দেশের একাধিক রাজ্যের ছোটখাট বিজেপি নেতারা তাঁকে বিভিন্ন ভাবে তোপ দেগেছেন। কেউ বলেছেন, উনি তো অমর্ত্য সেনের ছাত্র, ওঁর মতনই তো হবেন! কেউ বলেছেন, নোবেল তো নয় পেয়েছেন, কিন্তু উনি দেশের জন্য কী করেছেন? এ বার কেন্দ্রের শাসক দলের সর্বোচ্চ নেতাদের অন্যতম তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল তোপ দাগলেন বাঙালি অর্থনীতিবিদের বিরুদ্ধে।
এ দিন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী বলেন, “নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু ওঁর চিন্তাধারার কথা আপনারা সবাই জানেন। ওঁর তত্ত্বকে ভারতের জনতা খারিজ করে দিয়েছে আগেই। উনি বাম ঘেঁষা।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এ হেন মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য বৃন্দা কারাত বলেন, “এটাই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা। বিজেপির মনের মতো কিছু না হলে সেটাকেই বামপন্থী বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে।” জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়ক বলেন, “একদিকে সরকার সাভারকারকে ভারতরত্ন দিতে চাইছে আর অন্য দিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নোবেলজয়ী একজন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সম্পর্কে এই মন্তব্য করছেন। এতেই পরিষ্কার কেন্দ্রীয় সরকারের মানসিকতাটা ঠিক কী।”
এর মধ্যে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান, বাবার নাম ইতযাদি প্রভৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিতর্কে জড়িয়েছেন নিজেকে হিন্দু তাত্ত্বিক বলে পরিচয় দেওয়া মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। বিজেপি রাজ্যসভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষও অভিজিৎবাবু কতটা বাঙালি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক তৈরি করেছেন। এ বার সেই তালিকায় নাম জড়াল পীযূষ গোয়েলের।
অর্থনীতিতে এ বার তিনজন নোবেল পেয়েছেন। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই নোবেল পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। মহারাষ্ট্রের ধুলেতে জন্ম অভিজিৎবাবুর। কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন তিনি। তারপর স্নাতকোত্তর পাশ করেন দিল্লির জেএনইউ থেকে। এরপর চলে যান হার্ভার্ডে পড়তে। সেই সময় থেকেই দেশের বাইরে এই অধ্যাপক। তবে এখনও শিকড়ের টান ভোলেননি। টানা ঝরঝরে বাংলায় কথা বলে যান। নোবেল ঘোষণার পর এমআইটি-র মঞ্চে দাঁড়িয়েও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, “আমি জানি না এ থেকে উত্তরণের উপায় কী। তবে এক্ষুণি অর্থনীতিতে গরিবের হাতে আরও বেশি করে পয়সা দিতে হবে। বড়লোকের হাতে পয়সা দিলে হবে না।”
পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…