
শেষ আপডেট: 5 October 2021 12:57
প্রতিবছরই কলকাতার প্রায় সবকটি ঘাট গিজগিজ করে তর্পণ করতে আসা লোকজনের ভিড়ে। গতবছর সংক্রমণ রুখতে পুলিশের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বাবুঘাট, নিমতলা ঘাট, জাজেস ঘাটে দুরাত্ববিধি বজায় রাখতে মোতায়েন ছিল পুলিশ। মাইকে প্রচার করাও হয়েছিল। তবে লোক হয়েছিল অনেক কম।
বাগবাজারের কাশি মিত্র ঘাটের পুরোহিত সৌমেন ঠাকুর জানালেন, গতবছর বহু মানুষ আসেননি। এবছরও মনে হয় আসবেন না। আগে মহালয়ার দিন হাজার দুয়েক টাকা হাতে আসত। গতবছর মাত্র চারশো টাকা দক্ষিণা পেয়েছেন তিনি।
আহিড়িটোলা ঘাটের পুরোহিত মনোরঞ্জন দ্বিবেদী বললেন, 'আগে মহালয়ার দিন তর্পণ করিয়ে মোটা টাকা দক্ষিনা পেতাম। তর্পণ করিয়ে সাধারণত দশ টাকা নিই। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই ৫০-১০০ টাকা দক্ষিণা দেন। সবমিলিয়ে দুপুরের মধ্যে দশ-বারো হাজার টাকাও দক্ষিণা পেয়েছি একসময়। কিন্তু করোনা সেই রোজগার কেড়ে নিল। এবছরও বোধহয় লোকজন আসবে না।'
জানা গেছে, গতবছরের মতোই কাল বুধবার মহালয়ার ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাট চত্বরে মাইকে শুরু হবে ঘোষণা। বির্পযয় মোকাবিলা বাহিনী এবং ডুবুরিদের মোতায়েন রাখা হতে পারে। গত মহালয়ায় গঙ্গার ঘাটগুলিতে একসঙ্গে একাধিক মানুষকে তর্পণ করতে দেওয়া হয়নি। ছ ফুট দূরত্বে গোল গোল দাগ কাটা হয়েছিল। এবছর কলকাতা পুরসভা বা পুলিশের তরফে সেরকম কোনও ব্যবস্থা বিকেল পর্যন্ত চোখে পড়েনি।
এবছর তো বহু মানুষের ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজও নেওয়া হয়ে গেছে। করোনার প্রকোপও অনেকটা কম রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাহলে তর্পণ করতে কম লোক আসবে বলে কেন মনে করছেন? উত্তরে বাবুঘাটের দীর্ঘদিনের পুরোহিত ভগীরথ সাউ বললেন, 'তর্পণ তো দূরের কথা, গঙ্গায় লাশ ভেসে আসার ছবি দেখার পর থেকে আগের মতো গঙ্গা স্নানেই আসছেন না লোকজন। এই ঘাটেই আমাদের রুজিরুটি। পুজোর মুখে তর্পণের দিন বাড়তি রোজগার হলেও আমি চাই লোকের ভিড় কম হোক। উৎসবে মানুষ নিরাপদে থাকুক।'