দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও জল থেকে ওঠেনি সে। খবর আছে, আগামী কাল ভোর ভোর উঠবে। উঠেই পা রাখবে ওড়িশা উপকূলে। সূত্রের খবর, তার এই পদক্ষেপের ছোঁয়া শহরে এসে পৌঁছবে একটু বেলা করেই। তবে আসল রূপ খুলবে, শুক্রবার থেকে। ভারী বৃষ্টিপাতে ভিজবে গোটা শহর। আসন্ন ঘূর্ণিঝড় 'তিতলি'কে নিয়ে এমন পূর্বাভাসই দিয়ে রাখল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার পর্যন্ত আকাশ সাফ থাকার আশা না করাই ভাল। এমন অবস্থায় পুজোর শুরুটা যে খুব একটা স্বস্তির হবে না, তা বুঝতেই পারছে শহরবাসী। বুধবার আসন্ন দুর্যোগের জেরে ১২ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারও এ রকমই বৃষ্টিতে ভিজতে পারে শহর। তবে শুক্রবার থেকে অভিঘাত বাড়বে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
ইন্ডিয়া মেটেওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তরফে আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে পূর্ব উপকূল এবং উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে। এই পরিস্থিতিতে বাতিল হয়েছে বহু ট্রেন। রেল সূত্রের খবর, দক্ষিণগামী বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সময়সূচি বদলানো হয়েছে আরও কিছু ট্রেনের। আজ, বুধবার রাত ১০টার পরে খুরদা রোড ও বিজয়নগরমের মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। খুরদা রোড পর্যন্ত যাবে ট্রেন। ফলে ঘুরপথে চলবে চেন্নাই ও হায়দ্রাবাদগামী ট্রেন। হাওড়া ও খড়্গপুর থেকে দক্ষিণগামী সব আপ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পুরীগামী সব ট্রেনই অবশ্য অপরিবর্তিত থাকছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভূমিতে প্রবেশের সময় ঝড়ের গতি থাকবে ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ওড়িশা ও অন্ধ্র ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাও এই ঝড়ের তাণ্ডব থেকে রেহাই পাবে না। ইতিমধ্যেই ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ সহ পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। বেড়েছে ঢেউয়ের উচ্চতাও। উপকূল এলাকা থেকে মানুষ জনকে সরানোও শুরু হয়েছে।
এই অবস্থায় কলকাতার পুজো কতটা নিরুপদ্রব থাকবে তা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় শহরবাসী। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ঘুরছে সেই দুশ্চিন্তার নানা ছবি। কৌতুকও কম নয় অবশ্য। সব মিলিয়ে তিতলির ভয়ে রীতিমতো তটস্থ হয়ে উঠছে বাংলা।