বিয়ে মেনে নেয়নি পরিবার, স্ত্রী-কে দিয়ে স্বামীকে বাড়িতে ডেকে নৃশংস কাণ্ড ঘটাল শ্বশুর, শ্যালক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু, সেই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি ছিল না মেয়েটির পরিবার। শেষমেশ মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে নেন তাঁরা। প্রতিশোধ নিতে, মেয়েটির পরিবার কেটে নিল যুবকের পুরুষাঙ্গ!
মর্
শেষ আপডেট: 24 September 2019 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু, সেই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি ছিল না মেয়েটির পরিবার। শেষমেশ মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে নেন তাঁরা। প্রতিশোধ নিতে, মেয়েটির পরিবার কেটে নিল যুবকের পুরুষাঙ্গ!
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি বসিরহাট মহকুমার বকজুড়ি অঞ্চলের খাড়ুবালা গ্রামের। অভিযোগ, ২৮ বছরের মৌসুমী বিশ্বাস ৩২ বছরের সুরজিৎ বিশ্বাসের মধ্যে বহু দিন ধরেই বন্ধুত্ব ও প্রেম ছিল। সেই সূত্রে পরস্পরের বাড়িতে যাতায়াতও ছিল তাঁদের। তবে এত দূর পর্যন্ত ঠিক থাকলেও, পেশায় গৃহশিক্ষক সুরজিতের সঙ্গে মেয়ে মৌসুমীর বিয়ে দিতে রাজি হয়নি মৌসুমীর পরিবার।
শেষমেশ, মাস ছয়েক আগে, বাড়ির লোককে লুকিয়ে তাঁরা একটি মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে নেন বলে জানা যায়। কিন্তু মৌসুমীর বাবা দিলীপ বিশ্বাস এর পরে আরও বেশি বেঁকে বসেন। ক্রমাগত মৌসুমীকে চাপ দিতে থাকেন বিয়ে ভাঙার। মৌসুমী রাজি না হলে, পরিকল্পনা করতে থাকেন কী ভাবে মেয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ করানো যায় সুরজিতের।
শেষমেশ সোমবার রাত দু'টোর সময়ে দিলীপ বিশ্বাস তাঁর মেয়ে মৌসুমীকে দিয়ে জোর করে সুরজিৎকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে আনতে বাধ্য করে। অভিযোগ, সুরজিৎ আসা মাত্র দিলীপ বিশ্বাস এবং তাঁর বড় ছেলে অর্থাৎ মৌসুমীর দাদা তাপস বিশ্বাস সুরজিৎকে চেপে ধরে, আক্রমণ করে, তার পুরুষাঙ্গ কেটে নেয়!
সুরজিৎ যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কোনও রকমে ছুটে পালিয়ে যান নিজের বাড়িতে। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে রেফার করা হয় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। সেখানেই আইসিইউ বিভাগে ভর্তি আছেন তিনি।
এই ঘটনায় চার জনের বিরুদ্ধে হাড়োয়া থানায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছে সুরজিতের পরিবার। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত প্রেমিকা মৌসুমী বিশ্বাস, বাবা দিলীপ বিশ্বাস এবং দাদা তাপস বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। ঘটনার দায় স্বীকার করে হাড়োয়া থানার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণও করেছে তারা।
ধৃত তিন জনকে আজ মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। পুলিশ ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করেছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের ফাঁসি চেয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন সুরজিৎ বিশ্বাসের মা কমলাবালা বিশ্বাস।
