দ্য ওয়াল ব্যুরো: এভাবেই ময়ূরের পেখমের রঙে এখানে রঙ ছড়ায় যখন তখন। আকাশে মেঘের ঘনঘটায় সে পেখম মেলে ধরার ছবিও ধরা পড়ে। কুন্তী ও সরস্বতী এই দুই নদীর মাঝে থাকা সুবিশাল এলাকা পোলবার রাজহাট। গান্ধীগ্রাম, চকপাড়া, চৌতাড়া, সাহেববাগান, ঝাপানডাঙা কত না গ্রাম সেখানে।
বাংলার আর পাঁচটা গ্রামের মতোই ছায়া সুনিবিড় এই সব গ্রাম। তফাত শুধু একটাই। ঝাঁকে ঝাঁকে ময়ূর ঘুরে বেড়ায় এই গ্রামগুলির মেঠো পথে। গৃহস্থের আঙিনায়। রাজস্থানের জয়সলমিরের মতোই ময়ূর দেখা যায় রাজহাটের গ্রামে গ্রামে। বছরের পর বছর ধরে এলাকাকে রঙিন করে রেখেছে এই ময়ূরের দল। খাবারের সন্ধানে বাসিন্দাদের বাড়িতে হামেশাই ঢুকে পড়ে তারা।

তবে এখানেই শেষ নয়, গ্রামের বাসিন্দারাও নিজেদের সাধ্য মতো সন্তান স্নেহে আগলে রাখার চেষ্টা করেন তাঁদের এই মোহময়ী পোষ্যদের।
কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে ফারাক অনেক। গান্ধীগ্রামের কল্যা পরিবার গম কিনে খাবারের জোগান দেয় সাধ্যমতো। অসুস্থ ময়ূরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। গরম কালে খাওয়ানো হয় গ্লুকনডি পানীয়। ময়ূরের ডিম নষ্ট হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করা হয়।
পাশাপাশি দরকার ছিল সরকারি দেখভাল। তার অভাবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যায় গোটা রাজহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ময়ূর বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা। কারণ আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়ায় গাছ কাটা, জলাশয় বোজানোয় খাদ্য ও বাসস্হান নিয়ে ঘোর সংকটে ভারতের জাতীয় পাখির দল।

তাঁদের দাবি, সরকার উদ্যোগ নিয়ে এখানকার ময়ূরকূলকে রক্ষা করুক। পাশাপাশি গান্ধীগ্রামের ময়ূরের বিচরণ ভূমির বিস্তৃর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হোক পর্যটন কেন্দ্র যেখানে থাকবে বিধিনিষেধ। তাহলেই এখানকার বন্যপ্রান ও পরিবেশ দুই ই রক্ষা পাবে।
হুগলি জেলা পরিষদ দিল্লি রোডের পাশে ময়ূর মহল পার্ক তৈরি করেছে। কিন্তু নীলকণ্ঠি ময়ূর সংরক্ষণে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্হানীয় বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, রাজহাটের নীলকন্ঠী ময়ূরকে বাঁচানোর পাশাপাশি এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য জেলাপ্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্যসরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কিন্তু সে সব তো অনেক পরের কথা। আপাতত তাঁদের আদরে সোহাগে নীলকণ্ঠী ময়ূরের দলকে বাঁচিয়ে রাখাই রাজহাটের মানুষের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ।