
শেষ আপডেট: 24 June 2023 08:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছবি কথা বলে? যদি তাই হয় তাহলে শুক্রবারের পাটনার বৈঠকের (Patna Opposition meeting)পর শনিবার সকালে সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তি (Ganashakti) ও তৃণমূলের মুখপত্র জাগোবাংলা (Jago Bangla) প্রথম পাতায় যে ছবি ছাপল তা বোধহয় বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা জানান দিয়ে দিল। গণশক্তি প্রথম পাতায় পাটনা বৈঠকের যে ছবি ছেপেছে সেই ফ্রেমে কোথাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেই। আবার জাগোবাংলার লিড ছবিতে মধ্যমণি মমতাই। সিপিএম বা কংগ্রেসের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। রাহুল গান্ধী বা সীতারাম ইয়েচুরি—কেউ না।

তবে তৃণমূলের মুখপত্র প্রথম পাতায় আরও একটি ছোট ছবি ছেপেছে। তাতে বৈঠকের ফ্রেম রয়েছে। যেটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম ও ডেরেক ও'ব্রায়েনের পিছন থেকে তোলা। অনেক দূরে বাকি নেতাদের খুঁজতে হবে।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, পাটনার বৈঠকের পর নেতানেত্রীরা যে ঐক্যের কথা বলেছিলেন, রাজ্যে রাজ্যে তা কতটা বাস্তব সেই প্রশ্নই তুলে দিল বাংলার দুটি রাজনৈতিক দলের মুখপত্রের প্রথম পাতা।
শুক্রবার নীতীশ কুমারের বাড়িতে বৈঠকের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা চারেক নির্যাসের কথা শুনিয়েছিলেন। তার অন্যতম হল, বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ। বিজেপির বিরুদ্ধে সবাই এক হয়ে লড়ব।
সেই কথা শুনে কল্পনায় অনেকেই দেখার চেষ্টা করেছিলেন, বাংলায় কি একসঙ্গে মমতা, অধীর চৌধুরী, মহম্মদ সেলিমকে দেখা যাবে? বিজেপি বিরোধী রণকৌশল (opposition alliance) চূড়ান্ত করতে কি আলিমুদ্দিন স্ট্রিট, তৃণমূল ভবন বা বিধান ভবনে একের পর এক বৈঠক হবে? শনিবারের গণশক্তি ও জাগোবাংলা স্পষ্ট করে দিয়েছে এ ব্যাপারটা মোটেও তাই নয়।
কংগ্রেস ও তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের মতে, ব্যাপারটা কৌশলগত। বাংলায় সিপিএম-তৃণমূলে যেমন জোট হবে না, তেমনই দিল্লিতে আপ বা কংগ্রেসেরও জোট হবে না। কংগ্রেস-চন্দ্রশেখর রাওয়ের জোটের প্রশ্ন নেই তেলঙ্গনায়। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে এই বৈঠক কেন?
তা এই কারণেই যে রাজ্যে রাজ্যে যাই রাজনৈতিক বাস্তবতা বা বাধ্যবাধকতা থাকুক কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অন্তত সমষ্টিগত আওয়াজ উঠুক। একক বা বিক্ষিপ্ত বিরোধিতায় জোর থাকে না। কিন্তু দশটা লাঠি এক হলে শক্তি বাড়ে। তাই সংসদের ভিতরে বাইরে একজোট হয়ে নাস্তানাবুদ করে দেওয়া হোক সরকারকে। তবেই মোদী ও কেন্দ্রের সরকার সম্পর্কে ইউটোপিয়ান ধারণায় আঘাত হানা যাবে। মোদী বা বিজেপি যে অজেয় নয় সেই ধারণা কর্নাটকে ধাক্কা খেয়েছে। সমষ্টিগত আঘাত হানতে পারলে সেই ধারণা ছত্তীসগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশেও ধাক্কা খেতে পারে।
তাই পাটনায় ঠিক হয়েছে, আগামী ১০-১২ জুলাইয়ের মধ্যে কংগ্রেস শাসিত হিমাচল প্রদেশের সিমলায় পরবর্তী বৈঠক হবে।
মমতার ‘চা-বিস্কুট’ পরামর্শে ঝগড়া থামল বৈঠকে, রাহুল বললেন, ‘থ্যাঙ্কু দিদি’