
শেষ আপডেট: 1 April 2024 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সোমবার দুপুরে আহতদের দেখতে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে আসেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালের গেটে লোক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। আর তাতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে হাসপাতাল চত্বরে। টিকিট কাউন্টারের সামনে হাতে টিকিট নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন একদল রোগী। পরিস্থিতি সামাল দিতে যান জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আই সি সঞ্জয় দত্ত। তার সাথে তুমুল বাদানুবাদ শুরু হয় রোগী ও তাঁর পরিজনদের।
রবিবার ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় জলপাইগুড়ি। বাড়ির চাল ও গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। আহত হয়েছেন প্রায় তিনশোজন। খবর পেয়ে রবিবার রাতেই বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতারা জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়ি পরিদর্শনে আসেন। ঝড়ের দাপটে আহত ৪৬ জন এখনও ভর্তি রয়েছেন জলপাইগুড়ি হাসপাতালে। তাঁদের দেখতে এদিন দুপুরে শুভেন্দু অধিকারী আসেন হাসপাতালে। তারপরেই হাসপাতালে ঢোকার মুখে ভিড় নিয়ন্ত্রণ শুরু করে পুলিশ।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। তাঁদের বলতে শোনা যায়, "উনি রাজনীতি করতে এসেছেন। তার ফল ভোগ করছি আমরা।" এটা শুনেই বিজেপি কর্মীরা পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করলে হাসপাতালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকেও বেগ পেতে হয়। বেশ কিছুক্ষণ পর শুভেন্দু অধিকারীকে বেরিয়ে আসতে দেখেই ফের ক্ষোভ উগরে দেন রোগীরা। সনৎ গুহ নামে এক রোগী বলেন, "শুভেন্দু অধিকারী এসেছেন বলে আমরা এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। উনি এখানে রাজনীতি করতে এসেছেন। আর আমরা কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছি। ওঁর যদি এতই দরদ থাকত তবে আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখল কেন? ওই টাকা আসলে মানুষ পাকা বাড়ি বানাত। ঝড়ে বাড়ি ভাঙার সম্ভাবনা থাকত না।"
তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি তপন দে বলেন, "এটাই তো জনতার গর্জন। যাঁরা কথায় কথায় মানুষের অসুবিধা করে, মানুষের হকের টাকা আটকে রাখে, তাঁদের বিরুদ্ধে দিকে দিকে এমন প্রতিবাদ হওয়া দরকার।" বিজেপি জেলা সম্পাদক শ্যাম প্রসাদ বলেন, "নোংরা রাজনীতি করছে তৃণমূল। এই করে কোনও লাভ হবে না। উত্তরবঙ্গের মানুষ বিজেপির পাশে আছে।"