
শেষ আপডেট: 12 February 2024 21:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সকাল থেকে রোগীর ভিড়ে থিক থিক করে মেডিক্যাল কলেজ চত্বর। আউটডোরে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের লম্বা লাইন দেখা যায়। সোমবার পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন অনেকেই। অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজ থেকে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অপারেশনের অপেক্ষায় থাকা রোগীদের।
কারও পেটে বড় টিউমার। কারও আবার পেটে একাধিক টিউমার জমেছে। কয়েকমাস ধরে ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন। কেউ স্ত্রী রোগের জটিল সমস্যায় ভুগছেন। অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ডাক্তারবাবুরা ডেট দিতে পাচ্ছেন না।
প্রায় ২০ জন রোগী প্রয়োজনীয় স্ত্রী রোগ বিভাগে চিকিৎসা না পেয়ে, সোমবার জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের উপ-অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তখন উপ-অধ্যক্ষও সেখানে ছিলেন না। এরপরেই রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে তারা অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যার কথা জানান।
জলপাইগুড়ি বজরা পাড়ার বাসিন্দা অঞ্জলি রায়ের বয়স ৮০। তাঁর ছেলে মৃণালকান্তি পেশায় দিন মজুর। অঞ্জলিদেবী জটিল স্ত্রী রোগে আক্রান্ত। হাসপাতালে দেখিয়েছেন। চিকিৎসক অপারেশন করতে বলেছে। অভিযোগ, ৪ সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ঘুরপাক খাচ্ছেন। কিন্তু অপারেশন হচ্ছেনা।
একই অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ সীমান্ত বেরুবারি এলাকার বাসিন্দা জিয়ারুল হক। তাঁর স্ত্রীর জরায়ুর সমস্যা। অপারেশন করতে বলা হয়েছে। বহুদূর থেকে প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
সংস্কৃতি পাড়া এলাকার বাসিন্দা অর্চনা শীল। তার পেটে পাঁচটি টিউমার রয়েছে। ব্যাথার চোটে একাধিক বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রাইভেটে বিভিন্ন পরীক্ষা করেছেন। তাঁকে বলা হয়েছে অপারেশন করতে হবে। কিন্তু ডাক্তারবাবু সময় দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ।
সমাজকর্মী অঙ্কুর দাস বলেন, "হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা ঘুরপথে রোগীদের নার্সিংহোমগুলিতে পাঠানোর চেষ্টা করছেন, এমন অভিযোগ জানিয়েছেন কয়েকজন। এই ঘটনার তদন্ত না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।"
বিষয়টি নিয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার মলয় দে জানিয়েছেন, মেডিক্যাল কলেজে বেশ কয়েকটি অপারেশন থিয়েটারে একসঙ্গে অপারেশন হয়। কিন্তু অ্যানেসথেসিস্টের সংখ্যা অনেকটা কম থাকায়, সমস্যা হচ্ছে। তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়টি কাছে জানিয়েছেন। দ্রুত সমস্যা মিটবে।