দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাদের ওষুধে ‘করোনিল’ নাম ব্যবহার করতে পারবে না রামদেবের প্রতিষ্ঠান পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ – বৃহস্পতিবার এই রায় দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। বাজারে আনার সময় এটিকে করোনা ভাইরাসের ওষুধ হিসাবে প্রচার করেছিল পতঞ্জলি। কিন্তু এখনও করোনার কোনও প্রতিকারের কথা জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেছে আদালত।
চেন্নাইয়ের একটি সংস্থা করোনিল নামের বিরোধিতা করে আদালতে মামলা করেছিল। তাতে দাবি করা হয়েছিল, ১৯৯৩ সাল থেকে এই ট্রেডমার্কটি তাদের। ‘করোনিল-৯২ বি’ নামে তাদের একটি অম্ল-নিরোধক পণ্য রয়েছে যা শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এটি ভারী যন্ত্র পরিষ্কার করার কাজে লাগে এবং রাসায়নিক প্রস্তুতের কাজেও ব্যবহার করা হয়। বাদীপক্ষ জানিয়েছে যে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই ট্রেডমার্ক তাদের।
আদালত মনে করে, বিবাদীপক্ষ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এই মামলা ‘ডেকে এনেছে’। ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অতি সহজেই যাচাই করে নেওয়া যেত এই নামে কোনও ট্রেড মার্ক রয়েছে কিনা। যদি তারা তা যাচাই না করে থাকে বা যাচাই করার পরেও এই নাম ব্যবহার করে থাকে তা হলে কোনও ভাবেই তা বিবেচনা করা চলে না। রায় দেওয়ার সময় বিচারপতি সিভি কার্তিকেয়ন তাদের ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।
দশ কোটি টাকার কোম্পানি বলে নিজেদের দাবি করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মনে করোনা নিয়ে যে ভয় ও অতঙ্ক রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে পতঞ্জলি লাভের পিছনেই ছুটেছে। করোনাভাইরাসের ওষুধ বের করেছে বলে দাবি করে তারা যদিও তাদের করোনিল ট্যাবলেটটি করোনা নিরাময় করতে পারে না। এটি শুধুমাত্র সর্দি, কাশি ও জ্বরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
আদালত জানিয়েছে জরিমানার টাকা ২১ অগস্টের মধ্যে আদিয়ার ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং অরুম্বক্কমের গভর্নমেন্ট যোগা অ্যান্ড নেচারোপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দিতে হবে।
গত ১৭ জুলাই মাদ্রাজ হাইকোর্ট পতঞ্জলি আয়ুর্বেদকে এই ট্রেডমার্ক ব্যবহার করতে নিষেধ করে অন্তর্বর্তী রায় দিয়েছিল এক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই। আদালত লক্ষ্য করেছিল বিবাদীপক্ষ যে নামটি ব্যবহার করছে তার বানান পর্যন্ত অভিন্ন।
বৃহস্পতিবার আদালত বলেছে যে পতঞ্জলি এবং রামদেবের অন্য প্রতিষ্ঠান দিব্য যোগ মন্দির ট্রাস্ট বাদীপক্ষের ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত নিয়ম ভেঙেছে। পতঞ্জলি যে এই ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করেছে সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। আদালত বলেছে যে করোনিল নামকরণ নিয়ে পতঞ্জলি উপযুক্ত কারণ দর্শাতে পারেনি।
আদালত জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনও ওষুধ বের হয়নি এবং এবং এরা যে দাবি করেছিল নয়াদিল্লির আয়ুষ মন্ত্রক তার বিরোধিতাই করেছে।