
শেষ আপডেট: 3 June 2023 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অনেকদিন ঘরছাড়া। তামিলনাড়ুতে ধান কাটার কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার আনন্দে মশগুল ছিলেন তাঁরা। বেঙ্গালুরু-হাওড়া যশোবন্তপুর এক্সপ্রেসে এসেও গেছিলেন ঘরের কাছাকাছি। আচমকাই বিকট শব্দ। আসন থেকে তুলে নিয়ে কেউ যেন আছড়ে ফেলল তাদের। আহত অবস্থায় ঘরে ফিরে সেই অভিজ্ঞতার কথাই শোনাচ্ছিলেন সুন্দরবনের পাঠানখালি বিপ্রদাসপুর-শম্ভুনগর এলাকা থেকে তামিলনাড়ুতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকের দল। ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরে কেউ ট্রেনের জানলা ভেঙে, কেউ ছাদ কেটে কোনওমতে বাইরে আসেন। কীভাবে বেঁচে গেলেন, সেটা অবিশ্বাস্য লাগছে এখনও।
যশোবন্তপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মধুসূদন সর্দার বলেন, “অনেকদিন পরে বাড়ি ফিরছিলাম মনে আনন্দ নিয়ে। ট্রেনের বাঙ্কে বসে গল্প করছিলাম। আচমকা বিকট শব্দ। ঝাঁকুনিতে সিট থেকে পড়ে যাই। সবাই তখন চিৎকার করছে। প্রচণ্ড চোট পেয়েছি, কিন্তু আমাদের কয়েকজনের জ্ঞান ছিল। জানলা ভেঙে কোনওমতে বাইরে বেরিয়ে আসি। বাইরে এসে দেখি সব লন্ডভন্ড। লাইন থেকে ছিটকে পড়ে রয়েছে পরের পর কামরা। মানুষের আর্তনাদে সব গুলিয়ে যাচ্ছিল। কীভাবে যে বাড়ি পর্যন্ত এলাম এটা এখন আর ভাবতেও পারছি না।”
সুন্দরবনের পাঠানখালি বিপ্রদাসপুর শম্ভুনগর এলাকা থেকে ১২ জনের একটি দল গিয়েছিল তামিলনাড়ুতে। বাড়ি আসার জন্য বেঙ্গালুরু-হাওড়া যশোবন্তপুর এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। বালেশ্বরের কাছে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। তাঁদের মধ্যে চারজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় বালেশ্বরের হাসপাতালে ভর্তি। বাকিরা ফিরে এসেছেন। কম-বেশি আঘাত রয়েছে এঁদের সবারই। সেই যন্ত্রণা তো আছেই, তার থেকেও বেশি কষ্ট দিচ্ছে দুর্ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা। এই দুঃসহ স্মৃতি ভুলে যাওয়াই যেন এখন মস্ত চ্যালেঞ্জ!
'কামরায় মৃতদেহের স্তূপ, ছিন্নভিন্ন দেহাংশ, আমাকে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে প্রাণ গেল কতজনের'