দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে, অথচ দ্রুত প্রয়োজন শিক্ষকের। তাই এবার পাল্টা মামলার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। যদিও এ নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। তাঁর মামলার হুমকিতে সিপিএমের তরফে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “লোক লাগলে নেওয়া হোক। কিন্তু তাতে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।”
বস্তুত, এই স্বচ্ছতা নিয়েই দীর্ঘ দিন ধরে আইনি জটিলতা চলছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। নিয়োগের পরীক্ষা হওয়ার কিছু দিন পরে কাউন্সেলিংয়ের নোটিস জারি হয়। কিন্তু তার আগে তো জরুরি পরীক্ষার ফল অনুযায়ী মেধাতালিকা প্রকাশ করা। মেধাতালিকা ছাড়া কাউন্সেলিংয়ের নোটিস কী ভাবে জারি হয়, এই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রুজু হয় মামলা। সেই মামলার রায়ে বিচারপতি শেখর ববি শরাফ রায় দেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে।
রায় ঘোষণার পরে প্রকাশিতও হয় তালিকা। কিন্তু ফের নতুন অভিযোগ, নতুন মামলা। এই বার পরীক্ষার্থীরা দাবি করেন, প্রকাশিত মেধাতালিকাতেও অস্বচ্ছতা রয়েছে। কে, কীসে, কত নম্বর পেয়ে, তালিকার কত নম্বরে আছেন—তার পরিষ্কার ব্রেক আপ এবং যুক্তি অনুপস্থিত প্রকাশিত মেধাতালিকায়।
এই দ্বিতীয় মামলায় বিচারপতি নির্দেশ দেন, মেধাতালিকার স্বচ্ছতার এফিডেভিট দিতে হবে সরকারকে। অন্য দিকে, প্রার্থীদেরও পরিষ্কার করতে হবে অস্বচ্ছতার জায়গাগুলি। আট সপ্তাহ পরে পরবর্তী শুনানির নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু এই আট সপ্তাহে কী হবে, তা নিয়ে থেকে যায় ধোঁয়াশা।
এই অবস্থায় রাজ্য সরকার অভিযোগ তুলেছে, আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ। পদ পূরণ হচ্ছে না, পিছিয়ে যাচ্ছে রাজ্যের পঠনপাঠন। তাই এ নিয়ে পাল্টা আইনি পথ ধরার ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল বাতিল করা নিয়ে বারবার আদালতে যাচ্ছেন অনেকে। "এবার তা হলে সরকারও হাইকোর্টমুখী হবে। আইনের ফাঁসে পঠনপাঠনের এই ব্যাঘাত সরকার বরদাস্ত করবে না।"—সোমবার বিধানসভায় বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
পার্থ এ-ও জানান, প্রয়োজনে সরকার অন্য পথে শিক্ষক নিয়োগ করে পঠনপাঠন চালু রাখার কথা ভাববে। সরকারের এই তাড়া দেখে আশঙ্কা বাড়ছে বিরোধী মহলে। অভিযোগ, বড় দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই হঠাৎ পঠনপাঠন নিয়ে সরব হয়েছে সরকার।