দ্য ওয়াল ব্যুরো: বসিরহাটের বিজেপি নেতা কামাল গাজী ওরফে বাবু মাস্টারের উপরে গতকাল রাতে বীভৎস হামলা হয় মিনাখাঁ ফাঁড়ির কাছে। মুহুর্মুহু বোমা-গুলি চলে তাঁর গাড়ির উপর। বোমার স্প্রিন্টারের আঘাতে গুরুতর জখম বাবু মাস্টারকে ভর্তি করা হয়েছে অ্যাপোলোতে। এদিন এ ব্যাপারে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ওসব মস্তান-ফস্তানকে নিয়ে আমি কথা বলি না। আমি সুস্থ রাজনীতি করা লোক। কে কোথায় কী কারণে মার খেল, জমি দখলে মার খেল না কী কারণে মার খেল জানি না। প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করবে। কারও উপর যদি অন্যায় ভাবে হামলা হয়ে থাকে প্রশাসন দেখবে।"
শনিবার সন্ধ্যায় মুহুর্মুহু গুলি আর বোমায় ঝাঁঝরা হয়ে যায় মিনাখাঁর বিজেপি নেতা বাবু মাস্টারের গাড়ি। বাসিরহাটের সভা থেকে ফেরার পথে মিনাখাঁ ফাঁড়ির কাছে তাঁর গাড়িতে হামলা হয়। রক্তাক্ত বাবু মাস্টারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অ্যাপোলোতে ভর্তি করা হয়। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে।
বাবু মাস্টার এদিন বাসিরহাট থেকে মিটিং করে কলকাতায় ফিরছিলেন। সেই সময়েই তাঁর উপর হামলা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বিজেপি নেতার কালো স্করপিও ধাওয়া করে অন্তত তিরিশ থেকে চল্লিশ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। গাড়ি ঘিরে বোম চার্জও করা হয়।
হাসনাবাদের দাপুটে তৃণমূল নেতা বাবু মাস্টার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের শিক্ষা তথ্য সংস্কৃতি ও ক্রীড়া দফতরের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। বেশ কিছুদিন হল তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
বেশ কিছু দিন ধরেই বেসুরো ছিলেন বাবু। সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তৃণমূলেরই একাংশ চায় না তিনি দলে থাকুন। তারপর কর্মাধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি জানিয়ে ছিলেন, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে মাছ চুরির মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়। কিন্তু দল তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি নিজের এলাকায় ঢুকতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই সব কারণেই কর্মাধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা বলে দাবি বাবুর।
তার পর খাদ্যমন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং সুব্রত বক্সী তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ মেটেনি। বাবু মাস্টারকে এলাকায় ফেরাতে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছেন অর্জুন সিং। কিন্তু তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে যায়।
যদি এই ঘটনায় ১২ জনের নামে এফআইআর হয়েছে বলে জানা গেছে।
পার্থবাবুর কথা শুনে এক বিজেপি নেতা বলেন, "তৃণমূলে থাকলেই বিশিষ্ট সজ্জন। আর বিজেপিতে এলেই তিনি মস্তান বা ঘুষখোর। বাংলার মানুষ সব দেখছে।"