দ্য ওয়াল ব্যুরো: আংশিক সময়ের শিক্ষকদের বেসিক স্যালারি তথা মূল বেতন কী হবে সেই সংক্রান্ত মামলায় ধাক্কা খেতে হল রাজ্য সরকারকে। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্ত বুধবার বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাকারী দুই শিক্ষকের পক্ষেই রায় দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের অন্যান্য আংশিক সময়ের শিক্ষকদেরও স্থায়ী শিক্ষকদের হারে বেসিক তথা মূল.বেতন পাওয়ার দরজা খুলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমানের খানদ্রা হাইস্কুলের পার্ট টাইম শিক্ষক অনির্বাণ ঘোষ এবং বিটরা হাইস্কুলের শিক্ষক বরুণ কুমার ঘোষ মামলা করেছিলেন হাইকোর্টে। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আংশিক সময়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হলেও তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে পূর্ণ সময়। তাহলে তাঁরা কেন বর্ধিত বেসিক পাবেন না। যা স্থায়ী শিক্ষকরা পেয়ে.থাকেন।
সম কাজে, সম বেতনের রীতি মেনেই ২০১৯ সালে বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য রায় দিয়েছিলেন, এই দুই শিক্ষকের বেসিক স্যালারি স্থায়ী শিক্ষকদের হারেই দিতে হবে। এতে কোনও বিভাজন করা যাবে না।
সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় সরকার। কিন্ত সেখানেও প্রায় একই রায় বহাল রাখল রাজ্য সরকার। কিন্ত সেখানেও ধাক্কা খেতে হল রাজ্যকে।
হাইকোর্ট রাজ্যের উদ্দেশে স্পষ্ট বলেছে, দুই শিক্ষকের বেসিক বেতন হিসেব করে যা বকেয়া হবে তা আদালতের নির্দেশ পাওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।
মামলাকারীদের আইনজীবীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুনানির সময়ে রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর.দত্ত বলেন, সরকারের আর্থিক বিষয়ের দিকটিও আদালতের বিবেচনা করা উচিত। এজি-র সেই বক্তব্যকে খারিজ করে পাল্টা ডিভিশন বেঞ্চ বলে, শুধু বেসিক স্যালারি নয়। অবসরের পর এই শিক্ষকদের সুবিধার বিষয়গুলি দেখাও সরকারের কর্তব্য। আদালত তাঁদের পর্যবেক্ষণে এও বলেছে, যে সমাজে শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার হন সে সমাজ কখনওই সামনের দিকে এগোতে পারে না।