
শেষ আপডেট: 7 June 2023 14:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: পার্ক তৈরি হবে। তাই চল্লিশটি গাছ কাটবে পঞ্চায়েত সমিতি। তাদের এই সিদ্ধান্তে উত্তরবঙ্গে এখন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধিতায় সোচ্চার পরিবেশকর্মীরাও।
তাঁদের দাবি, যথেচ্ছ গাছ কাটার ফলে উষ্ণায়ন বাড়ছে। গরম বাড়ছে উত্তরবঙ্গে। এমনকী পর্যটনের উপর নির্ভরশীল দার্জিলিংয়েও বাড়িতে ফ্যান লাগানোর হিড়িক উঠেছে। যা হয়ত স্বপ্নেও ভাবেননি পাহাড়ের বাসিন্দারা। এতে বোঝাই যাচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাব উত্তরোত্তর বাড়ছে।
পরিবেশপ্রেমীদের প্রতিবাদে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ধূপগুড়ির পঞ্চায়েত সমিতি। বিরোধীদের অভিযোগ, আখের গোছাতেই গাছ কেটে পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত ওই পঞ্চায়েত সমিতি।
সিপিআইএমের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের দাবি, যেখানে তীব্র দাবদাহে জ্বলছে উত্তরবঙ্গ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে চল্লিশটি বড় গাছ কেটে পার্ক নির্মাণ করে উন্নয়ন করতে চাইছে তৃণমূল। আসলে সরকারের হাতে টাকা নেই, এই কারণেই গাছ কেটে উন্নয়ন হচ্ছে।

তাঁর আরও অভিযোগ, ২০১১ সালের পর থেকে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল দেদার ধ্বংস করা হয়েছে। জঙ্গল থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এমনকী এর আগেও পঞ্চায়েত সমিতির তরফ থেকে গাছ কেটে আসবাবপত্র তৈরি করা হয়েছে বলেই তিনি অভিযোগ করেন।
সিপিএমের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে একযোগে গলা মিলিয়েছে বিজেপিও। ধূপগুড়ির বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায় জানিয়েছেন, এইভাবে গাছ কেটে পার্ক নির্মাণ করা নিন্দনীয় ঘটনা। নতুন পার্ক নির্মাণ করার আগে ধূপগুড়ি ব্লকের যেসমস্ত পার্ক জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে সেগুলিকে আগে মেরামত করে সাজিয়ে তোলা উচিত ছিল। সেটা না করে চল্লিশটি গাছ বিক্রি করে নতুন পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। আসলে নতুন পার্ক নির্মাণ করার অছিলায় নতুন করে দুর্নীতি করার সুযোগ পাবে তৃণমূল। তাই পার্ক নির্মাণের এত তাগিদ দেখা দিয়েছে। একটি সরকারি দফতরের ভেতরে পার্ক নির্মাণ করলে সেটি সাধারণ মানুষ আদৌ কতটা ব্যবহার করতে পারবে সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।

যদিও বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ খণ্ডন করে তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনেশ মজুমদার জানিয়েছেন, এলাকার বয়স্ক মানুষজন এই পার্কে আসবেন। তাঁদের প্রাতঃভ্রমণে সুবিধা হবে। এই পার্ক আধুনিকভাবে সাজিয়ে তোলার জন্যই এই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চল্লিশটি গাছের বদলে এলাকায় আরও হাজার খানেক গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে টেন্ডারে স্পষ্ট লেখা রয়েছে। ধূপগুড়ির মানুষ যে উপহার পেতে চলেছে সেটাই সহ্য করতে পারছেন না বিরোধীরা।
জানা গিয়েছে, ধূপগুড়িকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলার জন্য বনদফতরের মাধ্যমে এই টেন্ডার পাস করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা তা মানতে নারাজ। তাঁদের প্রশ্ন পার্ক নির্মাণ হবে সেটা ভাল কথা, কিন্তু তাতে এতগুলি বহুমূল্যবান গাছ কাটতে হবে কেন?
পাত্রসায়রে রহস্যমৃত্যু যুবতীর, চক্রান্ত করে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে