
শেষ আপডেট: 18 May 2022 02:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেদিনটা ছিল বৃহস্পতিবার। ২০১৮ সালের ২৩ অগস্ট। তার ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে শাসক দলের মহাসচিব তথা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পৌরোহিত্যে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বাম জমানার খাদ্যমন্ত্রী পরেশ অধিকারী (Paresh Adhikari)। এরপর কাকতালীয় ভাবে পরেশের মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর নাম উঠে যায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকার ওয়েট লিস্টে! তাও যে সে ভাবে নয়! মেয়েদের ওয়েট লিস্টে ফার্স্ট গার্ল হয়ে যান অঙ্কিতা! অথচ তার একদিন আগেও যে তালিকা প্রকাশ হয়েছিল, তাতে কোথাও ছিল না অঙ্কিতার নাম।
২৩ অগস্ট দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রেস কনফারেন্স করছিলেন। তাঁকে এ নিয়েই প্রশ্ন করা করেছিলেন সাংবাদিকরা—চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে মেধা তালিকা বদল হল কেন? কীভাবেই বা তালিকায় এল কোচবিহারের সদ্য প্রাক্তন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশ অধিকারীর (Paresh Adhikari) মেয়ের নাম?
Paresh Adhikari: ওহে পরেশ অধিকারী, তুমি বদের ধাড়ি, এবার বাড়াবাড়ির শাস্তি হোক: অধীর
প্রশ্ন শুনেই চটে গিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেছিলেন,“প্রমাণ আছে? কে বলেছে, ওঁর (পড়ুন অঙ্কিতা অধিকারী) নাম আগে তালিকায় ছিল না।” এ কথা বলেই রাগী রাগী মুখ করে চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়েছিলেন পার্থবাবু।
কিন্তু এতে কি প্রশ্নের জবাব মিলেছিল?
একেবারেই নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন যে মেধা তালিকা প্রথমে প্রকাশ করেছিল তাতে তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলা প্রার্থীদের ওয়েট লিস্টে অঙ্কিতার নাম ছিল না। ‘দ্য ওয়াল’-এ সেই খবর প্রথম প্রকাশিত হয়। সেই তালিকা দ্য ওয়ালের কাছে ছিল। সেটাকেই প্রমাণ হিসাবে ধরা যেতে পারে!
তা হলে পার্থবাবু কেন পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন? কেনই বা রেগে গিয়েছিলেন?
পর্যবেক্ষকদের অনেকে তখন আন্দাজ করে বলেছিলেন, প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য রাজনীতিকদের হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু তা আকছার করতেন। কখনও কখনও এমনটা করতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও। প্রশ্ন শুনে কেউ যদি রেগে গটমট করে চলে যান, তা হলে সাংবাদিক নিরুপায়!
শুধু পার্থবাবু নন, স্কুল সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নিয়ে সেদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শর্মিলা মৈত্রকেও। কিন্তু তিনিও ‘ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব’ বলে জবাব এড়িয়ে যান। ওদিকে পরেশ অধিকারীর বাড়িতে গিয়েও সেদিন তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি, তিনি ফোনও ধরেননি সেদিন।
মন্ত্রীকে সরাতে আদালতের সুপারিশ বাংলায় নজিরবিহীন, কী করবেন মমতা
আদতে প্রকাশিত প্রথম মেধা তালিকাটিতে প্রথম স্থানে নাম ছিল ববিতা বর্মনের। নতুন তালিকায় তাঁর নাম দ্বিতীয় স্থানে চলে যায়। আবার তালিকায় ৬০ নম্বর স্থানে ছিল রূপালি রায়ের নাম। অঙ্কিতার নাম তালিকায় ঢুকে পড়ায় রূপালি-র নাম ৬১ তম স্থানে চলে গিয়েছিল।
স্কুল সার্ভিসের মেধা তালিকায় এই গরমিল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার ব্যাপারে তখনই হুমকি দিয়েছিলেন প্রার্থীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পার্থবাবু এখন জবাব না দিন আদালতে কৈফিয়ত তো দিতেই হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। তাই প্রথম প্রকাশ হওয়া তালিকাটি (যে তালিকায় অঙ্কিতার নাম ছিল না) যত্ন করে রাখা হয়েছে। কারণ, প্রমাণ চাইলে দেখাতে হবে তো!
সেই মামলার শুনানিই এতদিন ধরে হাইকোর্টে চলেছে। মঙ্গলবার তার রায়ে হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আর বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে হাজিরা দিতে বলেছে নিজাম প্যালেসে সিবিআই অফিসে। তা ছাড়া পরেশকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের জন্য সুপারিশও করেছে আদালত।